জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন,
“আওয়ামী লীগ সরকার ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষকে নির্যাতন ও দমন করেছে। সেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র জনতা ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনে নামিয়েছে। তরুণদের হাতেই গড়ে উঠবে সুন্দর সমাজ। আমরা বলছি, মুজিববাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন সংবিধান করতে হবে। জনগণের কল্যাণে একটি গণকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করব।”
রোববার দুপুরে দেশব্যাপী এনসিপির জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন,
“নেত্রকোনা বন্যা কবলিত এলাকা। একটি টেকসই জেলা গঠনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে সহযোগিতা করুন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে আমরা রাজপথে আছি। সংস্কার ও নতুন সংবিধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত হবো না।”
এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন,
“যদি সংস্কার, বিচার বিভাগ ও নতুন সংবিধান গঠন করতে না পারি, তাহলে বারবার ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসবে। ৭২ সালের সংবিধান আওয়ামী লীগের সুবিধার জন্য বানানো হয়েছিল। ভারতীয় আধিপত্যের মাধ্যমে মুসলমান ও আলেম সমাজকে কোণঠাসা করা হয়েছে। সেই সংবিধানে জনগণের অধিকার ছিল না। আমরা যে নতুন সংবিধানের কথা বলছি সেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। যারা এই দেশের মানুষকে গুম করেছে, সাগরে ভাসিয়েছে, খুন করেছে—তাদের বিচার এই মাটিতেই হবে।”
তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
“দশ ট্রাক অস্ত্র আনলেন কেন, যদি তা হ্যান্ডেলিং করতেই না পারেন? এই অস্ত্রের কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, জনগণের জীবন বিপন্ন হয়েছে।”
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা হাসনাত আবদুল, সারজিস আলমসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পরে দ্রুত সমাবেশ শেষ করে কেন্দ্রীয় নেতারা শেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।