রাজধানীর গুলশানে একজন সাবেক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশের ঢেউ উঠলেও সংগঠনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা দাবি করেছেন—এটি নতুন কিছু নয়, বরং অনেক আগেই এসবের শিকড় ছড়িয়ে পড়েছিল।
শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উমামা ফাতেমা আটক হওয়া পাঁচজনের ছবি শেয়ার করে লিখেন, “চাঁদাবাজির ঘটনায় আশেপাশের মানুষ এতটা অবাক হওয়ার অভিনয় করছেন যেন আমি-ই সবচেয়ে কম অবাক হয়েছি। তারা বহুদিন ধরেই সংগঠনের অভ্যন্তরে প্রটোকল, মিছিল-মিটিং আর বনানী গ্যাং কালচারে সক্রিয় ছিল।”
তিনি বলেন, আটককৃতদের একজন রিয়াদ আগেই তার সামনে রূপায়ন টাওয়ারে উশৃঙ্খল আচরণ করেছে এবং এদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অভিযোগও ছিল। তিনি লিখেছেন, “এই প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করেছে এরা, কিন্তু কেউ অভিযোগ তুললেই উত্তর ছিল—পিনড্রপ সাইলেন্স।”
এদিকে, গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা প্রথম দফায় সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের স্বামী আবু জাফরের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০ লাখ টাকা নিতে গেলে পুলিশ তাদের হাতেনাতে আটক করে। তাদের মধ্যে চারজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একজন কলেজছাত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পর সংগঠনের ভেতরের অসঙ্গতি এবং দুর্বৃত্তায়নের বিষয়গুলো আরও একবার সামনে এসেছে, যা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা নিজেও।