বর্তমান রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহারে কথার সাথে কাজে কোনো মিল নেই—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির (শায়খে চরমোনাই) মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম।
তিনি বলেন, “নৌকা নিয়ে যারা নির্বাচন করে তারা নৌকা চালাতে পারে না, ধানের শীষ নিয়ে যারা নির্বাচন করে তারা ধান কাটে না, লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করা লোকও লাঙ্গল চালায় না। শুধু গরিবদের প্রতীক নিয়ে ভোট নেয়, কিন্তু নিজেরা কেউ গরিব নয়।”
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুরের শকুনি লেক পাড় স্বাধীনতা অঙ্গনে ইসলামী যুব আন্দোলনের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের মূল দাবি ছিল “জুলাই চেতনার বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং বৈষম্যহীন ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন”।
হাতপাখা প্রতীকের ব্যাখ্যা দিয়ে শায়খে চরমোনাই বলেন, “হাতপাখা মুসলমানের যেমন দরকার, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ—সবার প্রয়োজন। কারেন্ট না থাকলেও হাতপাখা ফেল করে না। অন্য কেউ মার্কা নিয়ে ঘুমায় না, কিন্তু হাতপাখা মানুষ বুকের মধ্যে রাখে, কলিজার মধ্যে রাখে। তাই হাতপাখার বিজয় মানে শান্তির বিজয়, দেশের বিজয়।”
তিনি আরও বলেন, “সব প্রতীক আমরা দেখে ফেলেছি, এখন দরকার হাতপাখার বাংলাদেশ।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মাদ মারুফ, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি রেজাউল করিম আবরার এবং জেলা শাখার সভাপতি তালুকদার মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
শায়খে চরমোনাইয়ের বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতীকের নামে ভণ্ডামি, গরিবদের ব্যবহার এবং আদর্শহীনতার কড়া সমালোচনাই উঠে আসে বারবার।