দুপুর ১টার পরপরই উত্তরা দিয়াবাড়িতে ভয়াল ট্র্যাজেডি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন আর আতঙ্ক। ভবনের ভেতরে শতশত কোমলমতি শিক্ষার্থীর কান্না, দৌড়াদৌড়ি আর মৃত্যুভয় ছাপিয়ে এক নারী দাঁড়িয়ে গেলেন একাই—তিনি মাহেরীন চৌধুরী।
স্কুলটির কো-অর্ডিনেটর মাহেরীন চাইলেই হয়তো পালাতে পারতেন। কিন্তু তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন এক কক্ষে থেকে অন্য কক্ষে, শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে। এই মানবিক চেষ্টার মাঝেই দগ্ধ হন তিনি। প্রায় ১০০ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার রাত ৯টার কিছু আগে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
তাঁর স্বামী মনসুর হেলাল জানান, মাহেরীন স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বের হচ্ছিলেন, তখনই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্তও সন্তানসম শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচাতেই সচেষ্ট ছিলেন তিনি।
মাহেরীনের দুই সন্তান—একজন নবম শ্রেণির ছাত্র, অন্যজন ও-লেভেলের শিক্ষার্থী। তাদের জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হারিয়ে গেল চিরতরে। রাষ্ট্রীয় শোকের মাঝে একজন মায়ের আত্মত্যাগ এখন কোটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করছে।
নীলফামারীর বগুলাগাড়িতে মঙ্গলবার সকালে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মাহেরীনের আত্মদান শুধু একজন শিক্ষিকার দায়িত্ববোধ নয়, এটা এক নির্ভীক নারীর ইতিহাস হয়ে থাকবে। মৃত্যু আসন্ন জেনেও যারা অন্যকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়, মাহেরীন তাদেরই একজন—বাংলাদেশ তাঁকে স্মরণে রাখবে চিরকাল।
মাহেরীন চৌধুরীর আত্মত্যাগ কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়—এটা হয়ে রইল সাহস, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসার অনন্য এক উদাহরণ। তিনি বাঁচাতে চেয়েছিলেন তার শিক্ষার্থীদের, আর তাই নিজের জীবনটা অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। আজ সেই মা, শিক্ষক, সংগ্রামী নারীকে গভীর শ্রদ্ধা।