রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপর্যয়। প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ গেল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মেয়ে রজনী খাতুনের (৩৭)। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি, আর সেখানেই চাপা পড়ে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেন রজনী।
এই নারী শুধুই একজন মা নন, ছিলেন এক রাজনৈতিক পরিবারের গর্ব। তিনি ছিলেন মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গার হারদী কৃষি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন তিনি, মেয়ে ঝুমঝুম খাতুন পড়তো মাইলস্টোন স্কুলে, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো সোমবারও মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিলেন রজনী। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য লিখে রেখেছিল এক নির্মম পরিণতি।
হঠাৎ করেই আকাশ থেকে ছুটে আসা একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুলের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এক মুহূর্তেই মায়ের বুকের ওপর ভেঙে পড়ে মৃত্যুর ছায়া। ঝুমঝুম অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে তার মাকে। পরিবারের কান্না আর প্রতিবেশীদের শোকভেজা মুখে স্পষ্ট—এই ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
রজনীর ভাই আশিক আহমেদ কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“প্রতিদিনই বোন স্কুলে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতো। আজও গিয়েছিল। কে জানতো এমন বিভীষিকাময় মুহূর্ত তার জন্য অপেক্ষা করছে!”
গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সবাই বলছেন,
“মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে মা হারিয়ে গেলেন।” এই দুর্ঘটনার পর পুরো ইউনিয়ন যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এই মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনার নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন উঠেছে, প্রশিক্ষণ বিমান কেন জনবহুল এলাকার স্কুলের ওপর ভেঙে পড়বে? কতটা গাফিলতি, কতটা অবহেলা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী?