যাদের রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করে দেওয়ার জন্য বছরের পর বছর নানা ষড়যন্ত্র চলেছে, যারা বারবার নিষিদ্ধ ও নিঃশেষ করার হুমকির মুখে থেকেছে—তাদেরই নেতৃত্বে আজ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে।
শনিবার (১৯ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের এই দৃশ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—রাজনীতিতে কোনো শক্তিকে চিরতরে দমন করা যায় না।
ভোর থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের জেলা থেকে লাখো মানুষ ঢল নেমেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বিকেলের মধ্যেই উদ্যান ও তার বাইরের সড়কজুড়ে মানবঢেউ গড়ে ওঠে। সব বয়সী, সব শ্রেণির মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি যেন একটাই বার্তা দেয়—যাদেরকে শূন্য বানাতে চেয়েছিলো কেউ কেউ, তারা আজ আশীর্বাদপুষ্ট পরিপূর্ণতায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবির ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাত দফা দাবি ও ‘জুলাই প্রোক্লেমেশন’-এর ঘোষণা ঘিরে সমাবেশটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই জনসমুদ্র আল্লাহর রহমতের প্রমাণ। এটা প্রমাণ করে—যাদেরকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল, তারা আরও দৃঢ়ভাবে মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমাবেশ শুধু রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের শক্তি প্রদর্শন নয়—এটি দেশে মতপ্রকাশ ও গণআন্দোলনের পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।
নির্বাচন ও জাতীয় ঐক্য প্রশ্নে যে দ্বন্দ্বময় বাস্তবতায় বাংলাদেশ আজ দাঁড়িয়ে, সেখানে এই উপস্থিতি রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।