রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আজ পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবিতে—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা জাতীয় সমাবেশ ঘিরে এমন নজিরবিহীন জমায়েত দীর্ঘ সময় পর রাজধানীতে দেখা গেল। সকাল থেকেই ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথ দিয়ে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। শুধু উদ্যানই নয়, আশপাশের সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে জনতা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে পৌঁছান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর ঠিক তিন ঘণ্টা পর, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপস্থিত হন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তখন পুরো উদ্যান উত্তাল হয়ে ওঠে স্লোগানে, করতালিতে। নেতাকর্মীদের আবেগে আপ্লুত আমির হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।
এরপর দুপুর ২টার দিকে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয় ঐতিহাসিক জাতীয় সমাবেশ। এককভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম যে জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করছে—এত বিশাল জনসমাগম ও সংগঠনের সক্ষমতা নিঃসন্দেহে এদেশের রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা বহন করছে।
এই সমাবেশ শুধুই একত্রিত হওয়ার অনুষ্ঠান নয়—এর মাধ্যমে দলটি সাত দফা দাবি জনতার সামনে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কারের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
- সব গণহত্যার বিচারের দাবি
- মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন
- ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র কার্যকর
- জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবার পুনর্বাসন
- সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
- এক কোটির বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা
স্পষ্টতই, এই সাত দফার পেছনে রয়েছে একটি সুসংগঠিত ও পরিপক্ক রাজনৈতিক দর্শন, যার মূলমন্ত্র হলো—বর্তমান স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিপরীতে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন। এত দিন রাজনৈতিকভাবে দমন-পীড়নের শিকার হলেও জামায়াতে ইসলামীর এই বৈপ্লবিক সমাবেশে অংশ নেওয়া লাখো মানুষ দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশের জনগণ এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।