কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষকের জমি ও ঘের দখল করে চাষাবাদ এবং মৎস চাষ করায় ইউনিয়ন যুবদল ও বিএনপির দলীয় পদধারী নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দয়াল কুমার বড়ুয়ার মালিকানাধীন ৯ একর জমি মোঃ মেনাজ সিকদার দীর্ঘদিন ধরে তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ভোগ দখল করে আসছিলেন। পাশাপাশি এম.এ খায়ের মোল্লার ২৩.২৫ একর জমি বর্গা চাষ করতেন স্থানীয় কৃষক আলাউদ্দিন মৃধা।
সম্প্রতি ওই জমিগুলো জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জাফর মৃধা, তার ভাই কালাম মৃধা ও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মেনাজ সিকদার অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৪ বছর ধরে ঘের ও জমি চাষাবাদ করে আসছি।
আমার নিজের রেকর্ডিয় ৪ একর জমিসহ মোট ১৩ একর জমি একটি ভূমিদস্যু চক্র দখল করে নেয়।
জোর জবরদস্তি করে ইতিমধ্যে অবৈধ দখলকারীরা জমি চাষাবাদ করে। বাধা দিলে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে মারধর করে ও গালিগালাজ করে । এ বিষয়ে আমি মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও আমি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি, এখন বিএনপির দ্বারাও একইভাবে নির্যাতিত হচ্ছি।
৭নং ওয়ার্ড তাঁতি দলের সভাপতি সুজন শিকদার বলেন, আমাদের মাছের ঘেরটিতে বহু বছর ধরে মৎস্য চাষ করছি। কিন্তু সম্প্রতি যুবদল সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মৃধার নির্দেশে জাফর মৃধা ও তার সহযোগীরা ঘের দখল করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। বাধা দিলে আমাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পার্শ্ববর্তী কৃষক মোঃ আলাউদ্দিন মৃধাও অভিযোগ করে বলেন, আমি গরীব মানুষ, এম.এ খায়ের মোল্লার কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে চাষ করি। গত ৬ জুলাই জাফর মৃধা ও দেলোয়ার হোসেন মৃধা আমার জমি দখলে নেয়। বাধা দিলে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত জাফর মৃধা কাছে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি জমির তত্ত্বাবধায়ক জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় ১ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়েছি এবং আলাউদ্দিন মৃধার চাষ করা জমি এম এ খায়ের মোল্লার না, প্রকৃত মালিক শহিদুল ইসলাম খান।
আমরা মূল মালিকের কাছ থেকে জমি নিয়ে চাষাবাদ করছি। আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শহিদুল ইসলামের জমি দখল করে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান শহিদুল ইসলামের জমি তার স্ত্রী কে দান করে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে। পরে শহিদুল ইসলামের স্ত্রীর ঐ জমি খায়ের মোল্লার নিকট বিক্রি করেছেন।
আলাউদ্দিন মৃধা ও মেনাজ সিকদার বলেন শহিদুলের নামে এই জমি নেই যাহার দলিল ও শহিদুল ইসলামের মামলার রায়ের কপি আমাদের নিকট আছে।
তবে এ বিষয়ে জমির তত্ত্বাবধায়ক জসিম হাওলাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।