গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা শেষ করে ফেরার সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। বুধবার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, এবং এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির গাড়িবহরকে ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করেই হামলা চালায়। সেই মুহূর্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা শুধু অবস্থান নেয়—প্রতিরোধে দৃশ্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। পুরো পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে চলে যায়, এবং পরে পুলিশ নিজ উদ্যোগে হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অন্য এনসিপি নেতাদের সরিয়ে নেয়।
এর আগে সকালেই পদযাত্রার সমাবেশ চলাকালীন প্রথম দফা সংঘর্ষ ঘটে। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি তখনও নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সমাবেশ চলাকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকায় নেতাকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। এই সুযোগে হেলমেট পরা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা মঞ্চে চড়াও হয়। তারা চেয়ার-টেবিলসহ মঞ্চ ভাঙচুর করে এবং পুরো অনুষ্ঠানস্থলে তাণ্ডব চালায়।
এই ঘটনাগুলো কেবল একটি সমাবেশে হামলা নয়—বরং এটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সহিংস দমননীতির আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ। বিরোধী মত ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নিষ্ঠুর আঘাতের বহিঃপ্রকাশই যেন এখন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।