রাজনীতিতে নৈতিকতার অভাব ও গণমানুষের নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
গত শনিবার (১২ জুলাই) বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, “বিএনপি শুধু নির্বাচন চায়, অথচ মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে সোহাগকে হত্যার মতো বর্বরতার বিরুদ্ধে তারা নীরব— এটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
রফিকুল ইসলাম খান প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি এখনো দলীয় সন্ত্রাসীদের চিন্তা-চেতনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি? খুনি-চাঁদাবাজদের নিয়ে কেন মুখ খোলেন না?” তিনি অভিযোগ করেন, দেশের একটি দল আওয়ামী লীগের পতনের পর নিজেদের ‘মালিক’ ভেবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা ও ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “সোহাগ হয়তো যুবদলের কর্মী ছিলেন, কিন্তু তার অপরাধ কী? সে চাঁদা দিতে অস্বীকার করেছিল, সেটাই কি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য অপরাধ?” জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজরা কয়েকজন হলেও আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিহত করতে পারতো। কিন্তু আমাদের সাহস হারিয়ে গেছে।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, “যাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছি, তারাই এখন খুনি-চাঁদাবাজদের রক্ষায় ব্যস্ত। নির্বাচনের দাবি তুলছেন, অথচ খুনিদের বিচারের কথা বলেন না— এটি আত্মঘাতী রাজনৈতিক অবস্থান।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণ এখন আর কোনো দলকে খুনি-চাঁদাবাজ লালনের সুযোগ দেবে না।
বক্তারা সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের দিকেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন— চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার না করলে এই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। সবশেষে, স্লোগান ওঠে— “সোহাগ হত্যার বিচার চাই, দলীয় সন্ত্রাসীদের রক্ষা নয়!”