রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রকাশ্যে একজন ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় দলীয় সম্পর্কের তোয়াক্কা না করে কঠোর পদক্ষেপ নিল বিএনপি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের চার নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে দলটি। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন,
“অপরাধীদের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান একদম স্পষ্ট—জিরো টলারেন্স।”
তিনি বলেন,
“মিটফোর্ডের ঘটনার পর আমরা কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। এরপরও বিএনপির ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে—এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা চর্চা। বিএনপি কোনো অপরাধীকে রক্ষা করে না এবং করবে না।”
একইসাথে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন সরকারের কাছে।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম নয়ন এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, রজ্জব আলী পিন্টু (সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি) এবং সাবাহ করিম লাকি (যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল) সহ সংশ্লিষ্টদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“এই বহিষ্কৃত নেতাদের অপকর্মের দায় দল কখনও নেবে না। বরং যুবদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সব প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের মূল ফটকে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নিহতের বোন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে দল দ্রুত এই কড়া সিদ্ধান্ত নেয়। বিএনপি এবার পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে—অপরাধের সঙ্গে জড়ালে দলীয় পরিচয় বা পদ কোনো নিরাপত্তার ঢাল হবে না।