নতুন করে ৪৬টি প্রতীক যুক্ত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) মোট ১১৫টি নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে পাঠিয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ‘শাপলা’। ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে চাওয়া প্রতীক ‘শাপলা’ পাচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দলটি, একে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রহসনমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসির এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে তারা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের প্রতীক সংক্রান্ত কমিটি ১৫০টি প্রতীকের তালিকা তৈরি করলেও কমিশন তা কাটছাঁট করে ১১৫টি প্রতীক চূড়ান্ত করে। এই তালিকা থেকে ‘শাপলা’ বাদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এনসিপি গত ২০ জুন নিবন্ধনের আবেদন করে এবং প্রতীক হিসেবে প্রথম পছন্দে ‘শাপলা’, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দে ‘কলম’ ও ‘মোবাইল ফোন’ চায়। তিনটি প্রতীকের মধ্যে নতুন তালিকায় কেবল ‘মোবাইল ফোন’ জায়গা পেয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,
“ইসির আচরণ স্পষ্টভাবে পক্ষপাতমূলক। সভা হলো বৃহস্পতিবার, অথচ বুধবার রাতেই ‘শাপলা’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল। আজ তারা শুধু সেটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং কোনো পক্ষের ইন্ধনে হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। শাপলাই আমাদের একমাত্র পছন্দের প্রতীক। আমরা দলীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব এবং প্রয়োজনে রাজনৈতিক ও আইনগত লড়াই করব।”
দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন,
“নির্বাচন কমিশন আবারও প্রমাণ করল যে তারা নিরপেক্ষ নয়। শাপলাকে প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা প্রহসন বলে মনে করি। একতরফা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আইনি পথে যাব।”
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, যদি জাতীয় প্রতীকের অংশ হওয়াটাই ‘শাপলা’ প্রতীক না পাওয়ার কারণ হয়, তাহলে ‘ধানের শীষ’ বা ‘পাটপাতা’ও প্রতীক হতে পারে না। এনসিপির আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন,
“শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়, এটি জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ। ঠিক যেভাবে ধানের শীষ ও তারকা জাতীয় প্রতীকের অংশ। তাহলে একটিকে কেন বাদ, আর অন্যটি কেন বহাল? যদি জাতীয় প্রতীকের কোনো অংশই মার্কা না হয়, তাহলে আগে থেকেই বলুন। ভয় পেলে মার্কা রাখবেন কেন?”
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, জনপ্রিয়তার ভয়ে বা রাজনৈতিক চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এখন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের সময় এই বিষয়ে আপত্তি জানাবে এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে।