নুরুল হক নুর বলেছেন, সংস্কার কোনো দলকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, মানুষের প্রয়োজনেই হতে হবে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণসংস্কৃতি পরিষদের কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে যেমন কিছু লোক আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, এখনো তেমনি কিছু মানুষ আছে। এরা সব সরকারেই সুবিধাভোগী হয়ে যায়। আর সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকে যায়।”
তিনি বলেন, “দেশে প্রকৃত অর্থে সংস্কার দরকার। সেটা কোনো দলের স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে করতে হবে। সরকার চাইলে ১১ মাসে অনেক সংস্কার করা সম্ভব ছিল, কিন্তু হয়নি। এই সরকার সংস্কারের ছিটেফোঁটাও করেনি।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। এই প্রশাসন দিয়ে কোনো দিন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা বলেন, পুলিশ-প্রশাসন যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, তা দেশের জন্য ভয়ঙ্কর। প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্র থাকবে না।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, “বর্তমান শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্র, ভোটাধিকার সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমে প্রশাসনকে সংস্কার করতে হবে। সেই সংস্কার জনগণের স্বার্থে হবে, কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়।”
তিনি বলেন, “যারা প্রশাসনে বসে আছে, তারা যদি সৎ হতো, তাহলে আওয়ামী লীগের এই অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো না। প্রশাসনকে সরকার দলীয় এজেন্ট বানিয়ে রাখা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য নেতারাও বলেন, জনগণের সরকার গঠনের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আর সেজন্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন—সবকিছু সংস্কার করা জরুরি।
নেতারা জানান, গণসংস্কৃতি পরিষদ সংস্কারের এই আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক পরিসরেও ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে। অনুষ্ঠান শেষে কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং সংস্কার আন্দোলনকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।