জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবনেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই করে নেতৃত্বগুণে পরিচিতি পান তিনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর অন্যতম শীর্ষ সমন্বয়ক হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসেন।
‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঢাকাসহ সারাদেশে সাড়া ফেলে। হাসনাত জানান, পুলিশের বাধা, ছাত্রলীগের হামলা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা এক হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তিনি কুমিল্লা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে আন্দোলন সমন্বয় করেন, শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করেন যেন অন্যদের ওপর দোষ চাপিয়ে আন্দোলন দমিয়ে দেওয়া না যায়।
১৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে শিক্ষার্থীদের অপমানের প্রতিবাদে ঢাবিতে রাতে বিস্ফোরণ ঘটে। হাসনাত বলেন, টকশো শেষ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে দেখি পুরো ক্যাম্পাস স্লোগানে মুখরিত—‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার! রাজাকার!!’ ১৫ জুলাই রাজু ভাস্কর্যের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন হাসনাতসহ অনেকেই।
নারী শিক্ষার্থীদের উপরও নৃশংস হামলার ভিডিও সারা দেশে ক্ষোভ জাগায়। এরপর ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যার খবর আসতেই আন্দোলন আরও জোরালো হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি, জিজ্ঞাসাবাদ, ভয়ভীতি—সবই সহ্য করতে হয় হাসনাতদের। মন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের জন্য চাপ দেওয়া হয়, রাজি না হওয়ায় নিরাপত্তা হেফাজতে রাতভর জেরা চলে।
আন্দোলনের শেষ দিকে যখন বৃষ্টি নামে, হতাশা ভর করলেও ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ডাকে আবারও রাস্তায় নামেন তারা। সেনাপ্রধানের বিবৃতির পর জনতার ঢল নেমে যায়, খবর ছড়িয়ে পড়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে—বাংলার আকাশে বিজয়ের গান বাজতে থাকে। এমন সংগ্রাম আর সাহসের গল্পই হাসনাত আবদুল্লাহদের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনে দেয়।