সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চর মাধবপুর এলাকায় একটি খেলার মাঠের মালিকানা ও নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে উভয় পক্ষ শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মাঠে জমায়েত হয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়।
পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই চলে এই মহড়া, যা এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর মাধবপুর খেলার মাঠটি প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে গড়ে ওঠে। আংশিক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর স্থাপিত হলেও মাঠটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত ছিল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাঠের নাম নিয়ে ‘চর মাধবপুর খেলার মাঠ’ না ‘মাধবপুর খেলার মাঠ’ — এই বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এক পক্ষ অন্যপক্ষকে কাঠগড়ায় তুলে স্ট্যাটাস, মন্তব্য ও পোস্ট দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
এরই জেরে সোমবার বিকেলে মাঠে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হয় এবং প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই চলে এই দাপটপূর্ণ শোডাউন।
চর মাধবপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার একমাত্র অবলম্বন। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এখন এলাকাবাসী আতঙ্কিত। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সহিংসতা হলে তা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
মাঠ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিবুর সরদার বলেন, “মাঠে আমাদের পূর্বপুরুষদের জমি রয়েছে। তারা এলাকাবাসীর সহায়তায় জমি কিনে মাঠটি চর মাধবপুর খেলার মাঠ নামে রেজিস্ট্রি করেন।
বহু বছর ধরে এটি উন্মুক্তভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি এক পক্ষ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মাঠের নাম পরিবর্তনের দাবি তোলে। এরপরই তারা অস্ত্র নিয়ে মাঠে মহড়া দেয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এ বিষয়ে শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বাসুদেব সিনহা জানান, “আমাদের সামনে কোনো অস্ত্রের মহড়া হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে কয়েকশো লোকজন উপস্থিত ছিল। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে আমরা মাঠ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।