রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪—জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনায় এক হৃদয়বিদারক মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন বক্তব্য দিতে উঠে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া কিশোর আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা।
তিনি অভিযোগ করেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা, তারা একবারও আমাদের খোঁজ নেননি। আমার ছেলে ৫ আগস্ট বিমানবন্দর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। ওর রক্তের দামে যারা আজ ক্ষমতার চেয়ার দখল করেছে, তারা একটিবারও জিজ্ঞাসা করেনি আমরা কেমন আছি।”
ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যেই গত ১৮ মে আমার স্বামী ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেলেন।”
তিনি আবেগময় কণ্ঠে আরও বলেন, “যদি বিএনপি পরিবার আমাদের পাশে না থাকত, আজ রাস্তায় নামতে হত। আমার ছোট ছেলেটা বেঁচে থাকত না। তার চিকিৎসার খরচও বিএনপি নিয়েছে। আগামী শুক্রবার তার আরও একটি অপারেশন হবে। সবার কাছে দোয়া চাই।”
ফাতেমা তুজ জোহরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের আমরা আন্দোলনে জীবন দিয়ে ক্ষমতায় বসালাম, সেই উপদেষ্টা আর অন্তর্বর্তী সরকার আজ পর্যন্ত আমাদের খবর নেয়নি। এমনকি আন্দোলনের নেতারা—সারজিস, হাসনাতদের ১০০ বার ফোন করলেও রিসিভ করে না।”
অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে এই শহীদ পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সম্মান জানিয়ে আলাদা আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়।