ছাত্র, যুবক এবং নাগরিকদের বুকে সাহস আর প্রতিবাদের বার্তা নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন— কিন্তু আজ সেই আন্দোলনের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ নুরুল হক নুর।
তিনি বলেছেন, “যদি জানতাম এর পরিণতি এমন হবে, বন্দুকের নলের মুখে আমাদের দাঁড়াতে হবে, তাহলে হয়তো আমরা এভাবে আন্দোলনে নামতাম না।”
নুরের ভাষায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যেসব সহযোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন— তাদের স্মৃতি ও ত্যাগই আজ আন্দোলনের শক্তি।
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, “আমরা চেয়েছিলাম বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন, গুলি, হত্যা, গুম আর মিথ্যা মামলা আমাদের সেই স্বপ্নকে রক্তাক্ত করে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দেশে মানুষের ন্যায্য অধিকার চাওয়া এখন অপরাধ। তরুণদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের চোখ উপড়ে ফেলা হয়, যুবকদের গুলি করা হয়। আমরা সত্যিই জানতাম না, এমন ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে। আমরা ভেবেছিলাম জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তন আসবে।”
নুর বলেন, “যারা এখনো সাহস করে রাজপথে থাকে, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। আমরা জানি, জনগণ জেগে উঠলেই অন্যায় হারবে। কিন্তু সত্যি বলতে, অনেকেই ভয়ে, হতাশায় সরে গেছে। তাদের আমি দোষ দেই না। আমি নিজেও আজ প্রশ্ন করি— আমরা কি ঠিক করেছি? যদি জানতাম এমন হবে, হয়তো বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়াতাম না।”
তবে নুর জানিয়েছেন, সব হতাশার মধ্যেও হার মানা নয়— “যা হয়েছে, তার দায় শাসকগোষ্ঠীর। জনগণকে বোঝাতে হবে, একদিন অন্যায়ের শেষ হবে। আন্দোলন মানেই আত্মত্যাগ, কিন্তু সেই ত্যাগ বৃথা যাবে না।”