নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেছেন, “ড. ইউনূসের জায়গায় অন্য কেউ সরকারপ্রধান হলে ৩ মাসও টিকতে পারতো না।”
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “ড. ইউনূসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের ভালো সম্পর্ক আছে বলেই সরকার এক ধরনের ‘কৌশলী ছাড়’ দিতে বাধ্য হচ্ছে। অন্য কারও ক্ষেত্রে এটা হতো না, বরং তখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘ পর্যন্ত আলোচনায় চলে যেত।”
মনজিল মোরসেদ বলেন, “আমরা এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের প্রভাবমুক্ত নয়। সুতরাং মানবাধিকার লঙ্ঘন বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হলে বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু ইউনূস সাহেবের ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা সংযত, কারণ আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটা যেমন সরকারের জন্য অস্বস্তিকর, তেমনি আমাদের জন্যও একটি বিরল সুযোগ—আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ হচ্ছে বলে সরকার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত আচরণ করছে। কিন্তু এটা ব্যক্তিনির্ভর নয় হওয়া উচিত, সবার জন্য সমান অধিকার থাকতে হবে।”
এই আলোচনায় অন্য বক্তারাও দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও সুশাসন ছাড়া মানবাধিকার রক্ষা সম্ভব নয়।
এদিকে, সরকারপক্ষের নেতারা ড. ইউনূসকে “আইন ভঙ্গকারী” বলে অভিহিত করে তার বিচারকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, “আইনের চোখে সবাই সমান। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই, যা হচ্ছে সবই আইনি প্রক্রিয়া।”