শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

বিজ্ঞানীদের হত্যা করে কি থামানো যাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি?

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পেছনে থাকা শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি অনুযায়ী— গত ১৩ জুনের পর থেকে অন্তত ১৪ জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে। তেল আবিবের ধারণা, এসব হত্যাকাণ্ডের ফলে, থেমে যেতে পারে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ড হয়তো ইরানের কর্মসূচিকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে […]

বিজ্ঞানীদের হত্যা করে কি থামানো যাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি?

বিজ্ঞানীদের হত্যা করে কি থামানো যাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি?

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুন ২০২৫, ০৯:৪০

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পেছনে থাকা শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি অনুযায়ী— গত ১৩ জুনের পর থেকে অন্তত ১৪ জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়েছে।

তেল আবিবের ধারণা, এসব হত্যাকাণ্ডের ফলে, থেমে যেতে পারে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ড হয়তো ইরানের কর্মসূচিকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে থামাতে পারবে না।

ফ্রান্সে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জোশুয়া জারকা বার্তা সংস্থা এপি-কে বলেন, বিজ্ঞানীদের হত্যাকাণ্ড ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথকে ‘প্রায় অসম্ভব’ করে তুলবে। এমনকি দুই সপ্তাহের বিমান হামলার পরও যদি ইরানের কিছু অবকাঠামো টিকে থাকে, এই বিজ্ঞানীদের হত্যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা।

তার ভাষায়, বিজ্ঞানীদের পুরো দল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো— প্রকল্পটি কয়েক বছরের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে।

পরমাণু বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানে এখনো এমন বিজ্ঞানীরা রয়েছেন, যারা নিহতদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে, শুধু সামরিক উপায়ে ইরানের পরমাণু জ্ঞান ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, যাতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর হয়।

ব্রিটেনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি হাউস অব কমন্সে বলেন, ইরান কয়েক দশকে যে জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জন করেছে, হামলা তা ধ্বংস করতে পারে না। তিনি বলেন, কোনো সরকারই সেই জ্ঞানকে অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

ইসরায়েলের দাবি, নিহত বিজ্ঞানীরা শুধু পদার্থবিদ বা প্রকৌশলী ছিলেন না, তারা পরমাণু বোমা তৈরির প্রকল্পেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত জারকা বলেন, তারা ‘সব জানতেন’ এবং প্রকল্পের শীর্ষে ছিলেন। তাই তাদের নির্মূল করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ১৩ জুনের প্রথম হামলাতেই ৯ জন শীর্ষ বিজ্ঞানী নিহত হন। তারা ছিলেন রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, বিস্ফোরক এবং পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ। সোমবার এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান জারকা।

পরদিন, মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়— ইসরায়েলি হামলায় পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ রেজা সিদিঘি সাবের নিহত হয়েছেন। তিনি ১৩ জুনের হামলায় বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে তখন তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে মারা যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু প্রকল্পের অগ্রগতি থামাতে নয়, বরং ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের ভয় দেখানোর জন্যও করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো— যারা কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তারা যেন আগেভাগেই পিছিয়ে যায়।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিশেষজ্ঞ মার্ক ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, ইরানের প্রকল্পের ব্লুপ্রিন্ট বা নকশা রয়ে যাবে। নতুন পিএইচডি গবেষকরা সেটি বুঝে নিতে পারবে। তার মতে, মানুষকে হত্যা করে বা স্থাপনায় বোমা ফেলেও কর্মসূচি থামানো যাবে না, কেবল দেরি করানো যাবে।

ফিটজপ্যাট্রিক আরও বলেন, ইরানের হাতে বিকল্প বিজ্ঞানী রয়েছে। হয়তো তারা প্রথম সারির নয়, কিন্তু কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কর্মসূচি কত দ্রুত পুনরায় চালু হবে, তা নির্ভর করছে— হামলায় ইউরেনিয়ামের মজুত এবং উৎপাদন যন্ত্রপাতির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার ওপর।

রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বিশ্লেষক পাভেল পডভিগ বলেন, মূল বিষয় হলো— উপাদান। ইউরেনিয়াম হাতে থাকলে বাকি কাজ করা তুলনামূলক সহজ। তার মতে, বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়েছে— মানুষকে ভয় দেখিয়ে কর্মসূচি থেকে দূরে রাখতে। তিনি বলেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনি কোথায় থামবেন? আপনি কি পদার্থবিদ্যা পড়া ছাত্রদেরও হত্যা করবেন? এটি খুবই বিপজ্জনক পথ।

রাষ্ট্রদূত জারকার বক্তব্য, ভবিষ্যতে যারা এই প্রকল্পে কাজ করতে বলা হবে, তারা দুইবার ভাববে। তার মতে, বিজ্ঞানীদের হত্যা কার্যকর পদক্ষেপ। কারণ তাদের হাতে এমন দক্ষতা ছিল, যা দিয়ে তারা ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রে রূপান্তর করতে পারতেন।

ইসরায়েল অতীতেও ইরানি বিজ্ঞানীদের হত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার তারা সরাসরি দায় স্বীকার করেছে। ২০২০ সালে ইরান তার শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল। ফ্রান্সের বিশ্লেষক লোভা রিনেল বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ইরানের কর্মসূচিকে বিলম্বিত করেছে, কিন্তু থামাতে পারেনি।

ইসরায়েল এই হত্যাকাণ্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বেসামরিক ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা নিষিদ্ধ। তবে কেউ যদি সরাসরি সামরিক কাজে যুক্ত থাকেন, তাহলে নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টিভেন আর. ডেভিড বলেন, এই বিজ্ঞানীরা এমন একটি শাসনের হয়ে কাজ করছিলেন, যারা ইসরায়েলকে ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে। তারা এমন অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছিলেন, যা এই হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারত। তাই তাদের হত্যা বৈধ টার্গেট।

তিনি আরও বলেন, নাৎসি জার্মানি বা জাপানের নেতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন ‘ম্যানহাটন প্রকল্পে’ যুক্ত বিজ্ঞানীদের হত্যা করতে দ্বিধা করতেন না।

তবে আইন বিশেষজ্ঞ লরি ব্ল্যাংক বলেন, এই হত্যাকাণ্ড আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ কি না, তা এখন বলা কঠিন। কারণ, ইসরায়েলের হাতে কী ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ছিল, তা বাইরে থেকে জানা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রদূত জারকা বলেন, পদার্থবিদ্যা শেখা এবং ইউরেনিয়াম সম্পর্কে জানা এক জিনিস, কিন্তু সেটিকে অস্ত্রে রূপান্তর করার সক্ষমতা সম্পূর্ণ আলাদা। যারা লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, তাদের সেই সক্ষমতা ছিল। তাই তারা নির্মূল হয়েছেন।

সূত্র: এপি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৪০৫

আন্তর্জাতিক

পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক অচল করে দিলো ইরান

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৩

ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান ওয়্যারের তথ্যের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে এমন দাবি শোনা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ত্রিশ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, স্টারলিংক ইন্টারনেটের আশিরও বেশি শতাংশ ট্র্যাফিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আগের ব্ল্যাকআউটগুলোর তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে এই সেবাটি চালু রাখা ও ব্যবহার করা দেশটির আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে বারো দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে শাটডাউনগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে খণ্ডিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।

মিয়ান গ্রুপের আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত বিশ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ স্টারলিংক ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদরাও জানান, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে পনেরো লাখ ষাট হাজার ডলার খসে যাচ্ছে।’ এই তথ্য ইরানে চলমান যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৪০৫

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৪০৫

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৪০৫