মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চূড়ায়—ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার প্রতিশোধে ফিলিস্তিন ও ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে—তখনও নিরব লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
ইরান সরাসরি যুদ্ধে নামার পরও কেন লেবানন থেকে বড় ধরনের সামরিক জবাব আসছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক পরিসরে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর এই নীরবতা আসলে কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, ইরান যখন সরাসরি যুদ্ধ করছে, তখন লেবাননের পক্ষ থেকে আলাদা করে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হিজবুল্লাহ দেখছে না। লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাশেম কাশি বলেন, “ইরানি মিসাইলই ইসরায়েলকে মোকাবিলা করতে যথেষ্ট।”
এছাড়া, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট ছোড়ার জবাবে পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৪,০০০ বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধা।
এতে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় ক্ষোভ ও ক্লান্তির আবহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে কার্যত একটি অলিখিত যুদ্ধবিরতি চলছে।
আরও একটি বড় কারণ—নেতৃত্বহীনতা ও সামর্থ্যহীনতা। ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন, ধ্বংস হয়েছে অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ। ফলে তারা এখন সীমিত সামর্থ্যে রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরে ইরানের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। যদিও হিজবুল্লাহ ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তবে চলমান সংঘাতে তেহরানের ‘সীমিত’ ভূমিকা তাদের হতাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় বা আরও তীব্র রূপ নেয়, তাহলে হিজবুল্লাহ হয়তো ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তবে আপাতত কৌশলগত নীরবতাকেই তারা প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?