দখলদার ইসরাইলের ইরানে হামলা চালানোকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রাশিয়ার বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইস কুরবানভ। ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে তারা আগের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যর্থ হয়ে এখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
কুরবানভ বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতার টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্য ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা—ইহুদিবাদী ইসরাইলকে জবাব দেওয়া হবে। এবং ইরান সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই যুদ্ধে বিজয়ী হবে ইরান।”
রুশ এই বিশ্লেষক ইসরাইলের অতীত কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ইসরাইল শান্তিপূর্ণ ইরানি পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে বিজ্ঞানী ও পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে, অথচ নিজেরাই পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত। বিশ্ব এই দ্বিচারিতা নিয়ে নিশ্চুপ থেকেছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে জেসিপিওএ (Joint Comprehensive Plan of Action) থেকে বেরিয়ে যাওয়াকেও ইরানের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের বৈষম্যমূলক অবস্থান হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর ইরানবিরোধী বিবৃতি নিয়েও কুরবানভ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “এই বিবৃতি প্রমাণ করে পরমাণু ইস্যুতে পাশ্চাত্য দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে, যা ন্যায্য নয়।”
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাতে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা। এতে ইরানের প্রায় ১০৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। আহত হন আরও ৩৮০ জন।
ইসরাইলি হামলার পাল্টা জবাবে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা ইসরাইলের অন্তত ১৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদি জানান, এসব টার্গেটের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ছিল।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি পাল্টা হামলায় ইসরাইলে অন্তত ৩ জন নিহত ও ১৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?