আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক পরিণতি দেখে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন দলটির দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শারীরিকভাবে ভগ্নপ্রায় হলেও, রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি এখনো চিন্তাশীল ও সচেতন।
তাঁর শ্যালক ডা. আনম নওশাদ খান জানিয়েছেন, আবদুল হামিদ প্রায়ই বলেন, “গত ১৬ বছরে আমাদের অনেক ভুল ছিল। তা না হলে এমনটা কেন হতো?” তার মতে, আজকের এই পরিস্থিতি—আওয়ামী লীগের কার্যত নিষিদ্ধ হওয়া ও নেতাদের জেল-জুলুম—সবই অতীতের রাজনৈতিক অপকর্মের ফল।
সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন আবদুল হামিদ। ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে থাকা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক এখন চলাফেরায় সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
নামাজ পড়তে পারেন না, কথা বলেন খুব কম, কিন্তু মনটা এখনো দেশের রাজনীতিতে। তিনি নিয়মিত খবরের কাগজ পড়েন, সময় পেলে টেলিভিশন দেখেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে কাজ করলেও, বর্তমানে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। নওশাদ খান জানিয়েছেন, দলীয় শাসনামলে অনেক সিদ্ধান্তে আপত্তি ছিল আবদুল হামিদের।
তিনি স্পিকার থাকাকালেই সতর্ক করে বলেছিলেন—“সরকার স্বৈরাচারী হলে জনগণ বেশিদিন সায় দেবে না।”
আবদুল হামিদ মনে করেন, আগামীতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে আওয়ামী লীগকে নিজেদের ভুল স্বীকার করে পথ পরিবর্তন করতে হবে। নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি অনুশোচনা না করলেও আফসোস করেন, অনেক সত্য তিনি বলতে পারেননি।
চিকিৎসকদের মতে, তাঁর বাঁচার সময়সীমা আর খুব বেশি নয়। কিন্তু দেশের মাটিতে মরার ইচ্ছা থেকেই তিনি ফেরত এসেছেন। নিজের জন্মভূমি হাওড়ের প্রতি এখনো তীব্র টান অনুভব করেন এই প্রবীণ নেতা। যদিও শারীরিক অবস্থার কারণে সেখানে আর যাওয়া সম্ভব নয়।
আজীবন রাজনীতি করে কাটানো আবদুল হামিদ আজ রাজনীতির বাইরে, কিন্তু রাজনীতি তাঁর ভেতরে এখনো জীবন্ত।