মধ্যরাত পেরিয়ে যখন মানুষ গভীর নিদ্রায়, তখন ইরানের আকাশে গর্জে ওঠে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন। পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও সামরিক ঘাঁটিতে চালানো হয় ধারাবাহিক হামলা। ইসরায়েল জানায়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ রুদ্ধ করতেই এই অভিযান।
ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই হামলা দুর্দান্ত হয়েছে। ইরানকে ৬০ দিনের সময় দিয়েছিলাম, তারা গ্রহণ করেনি। এটা শুধু শুরু—আরও আসছে।” যদিও হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি, তবে ট্রাম্পের মন্তব্যে জটিলতা বাড়ে।
হামলার পাল্টা জবাবে ইরান প্রায় ১০০টি ড্রোন ছুড়ে ইসরায়েলের দিকে। তবে ইসরায়েল দাবি করে, অধিকাংশই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ সকালেই তুলে নেওয়া হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবেগঘন ভাষণে বলেন, “আমরা এমন জবাব দেব, যাতে ইসরায়েল অনুশোচনায় ভুগবে।” হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধানসহ বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সূত্র জানায়, মসাদ আগে থেকেই ইরানে গোপন অভিযান চালাচ্ছিল।
এদিকে যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৮% বেড়েছে। ইরান জানায়, তাদের তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়নি।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক শান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।