অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন, “টাকা ফেরত চাইলে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না—এ বিষয়ে বন্ধুবান্ধব আর সরকারপ্রধানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।” বৃহস্পতিবার (১২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সজীব ভূঁইয়ার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। লন্ডন সফরের মূল উদ্দেশ্য, বিগত সরকারের সময় পাচার হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়।
তবে ইউনূসের এ প্রচেষ্টায় রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাজ্যের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ড. ইউনূসের সাক্ষাতের অনুরোধে সাড়া দেননি। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়—ইউনূস মনে করেন, যুক্তরাজ্যের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে এই অর্থ উদ্ধারে সহায়তা করার, কারণ বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থের অবস্থান এখন লন্ডনে।
সজীব ভূঁইয়ার মন্তব্যকে অনেকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা না পাওয়ার হতাশা হিসেবেও দেখছেন। এদিকে, সমালোচকেরা মনে করছেন, “বন্ধুবান্ধব আর সরকারপ্রধান কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না” মন্তব্যটি সরাসরি কিয়ার স্টারমার এবং আগে থেকে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ।
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে থাকলেও, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া তা কার্যকর হবে না—এমন আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।