খুলনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায়। বুধবার (৪ জুন) দুপুরে নগরীর নিজ খামার এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে দলটির ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে নিজ খামার এলাকায় মিছিল করছিলেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করা হয়।”
তিনি আরও জানান, আটকদের মধ্যে একজন পালাতে গিয়ে দৌড়ের সময় পা ভেঙে ফেলেন। পরে তাকেও আটক করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসন পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে খুলনায় দলটির বিভক্ত অংশের মিছিল ও পুলিশের হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অবস্থান, মিছিল কিংবা গণজমায়েত—যাই হোক, আওয়ামী লীগের মতো শাসকদলের নেতাকর্মীদের পুলিশি আটকের ঘটনা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন দলের ভেতরের টানাপোড়েন এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ইঙ্গিতই স্পষ্ট হচ্ছে এসব ঘটনায়।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় কোনো নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে সামাজিক মাধ্যমে দলটির কর্মীদের অনেকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সরকারি দলের ভেতরেই যখন মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং দলীয় পরিচয়ধারীদের পুলিশি গ্রেপ্তার হয়, তখন সেটি কেবল একটি অপারেশন নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্রও—এমনটাই বলছেন খুলনার রাজনীতিবিদরা।