সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মন্তব্য করেছেন, “জুলাই সনদ নিয়ে এনসিপি বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং এই সনদের পেছনে তাদের আসল উদ্দেশ্য নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
গতকাল এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো ‘আপনার মত’-এ অংশ নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে এনসিপি গো ধরে বসে আছে। তারা একবার বললো প্রেসক্লাবে যাবে, পরে আবার তা স্থগিত করলো। এরপর দাবি করলো আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দরকার। আবার বলছে নির্বাচন কমিশন বিএনপির দালাল দিয়ে ভরে গেছে। এই ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, তারা নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে নিজেরাও পরিষ্কার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে, এটা ঠিক। তবে সেই আন্দোলনের জন্য নতুন করে লিখিত সনদের প্রয়োজন কেন? এর মানে হলো, তারা হয়তো ভয় পাচ্ছে ভবিষ্যতে তাদের কিছু কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আগে থেকেই বৈধতার সনদ চাইছে।”
মাসুদ কামালের ভাষায়, “এনসিপির প্রত্যেকজন নেতা-কর্মীকে বর্তমান সরকার প্রটেকশন দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে সেই প্রটেকশন থাকবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। এই শঙ্কা থেকেই জুলাই সনদের দাবি জোরদার করছে তারা।”
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “জুলাই সনদ আসলে এনসিপি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজন, দেশের নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে।