নির্বাচনকে ঘিরে দায়িত্বহীন মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর বিতর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এনসিপি ঘরানার কিছু নেতাকর্মীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং উন্নয়নকে একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা জনমতকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন,
“আপনি যদি বলেন—খাওয়া আগে, না কি কাপড় পরা আগে—এই ধরনের প্রশ্নে যুক্তির কি কোনো জায়গা আছে? একটা রাষ্ট্রে সব দায়িত্বই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি বলেন, আগে বিদ্যুৎ না আগে নির্বাচন, আগে গ্যাস না আগে ট্রাফিক—এই সব প্রশ্ন করে কি আপনি কোনো সরকারের কথা শুনতেন? তাহলে এখন কেন এই অযৌক্তিক বিভ্রান্তিতে জনগণকে টানছেন?”
ববি হাজ্জাজ কঠোর ভাষায় বলেন,
“যারা নিজের জীবনে কোনো চাকরি করেনি, ব্যবসা করেনি, রাজনীতি বুঝে না, বিচার ব্যবস্থার মৌলিক ধারণাও নেই—তারা এসে আজ রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটা আত্মঘাতী এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় পারবে কি না তাও জানে না, অথচ এসে নির্বাচনের আগে-পরে নিয়ে ফতোয়া দেয়। এটা রাজনীতি নয়, এটা অবজ্ঞা।”
১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের সময়ে রাজনৈতিক মামলা মোকাবিলা করে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এনডিএম চেয়ারম্যান বলেন,
“আমরা উকিল না হলেও বিচারব্যবস্থা শিখে গেছি—কারণ শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে একটার পর একটা মামলা পেয়েছি। আপনি যদি ন্যায়বিচার চান, তাহলে সেটি সময়সাপেক্ষ। আপনি যদি বলেন, নির্বাচিত সরকার বিচার করবে না—তাহলে আপনি আসলে রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েই অনাস্থা প্রকাশ করছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“আপনি যদি বলেন নির্বাচিত সরকারের ওপর আস্থা নেই—তার মানে আপনি ১৮ কোটি মানুষের ওপরই অনাস্থা প্রকাশ করছেন। যারা নিজেরা ভোট দেয় না, জনগণের সঙ্গে থাকে না—তারা এসে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলে। ভোটে অংশ না নিয়ে কেউ বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে কথা বলার অধিকার দাবি করতে পারে না।”
ববি হাজ্জাজ শেষমেশ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“এই দেশে জনগণের হয়ে কথা বলার অধিকার পেতে হলে ভোটের মাঠে নামতে হবে। ভোট না করে, জনসম্পৃক্ততা না রেখে কেউ জাতির বিবেক হওয়ার দাবি করতে পারে না। যারা এ ধরনের দায়িত্বহীন রাজনীতি করে, তাদের জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে।”