জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন অত্যাবশ্যক, তবে তা রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম বাদ দিয়ে নয়। মঙ্গলবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন বলেন, “সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নির্বাচন আবশ্যক, তবে সেটা সংস্কার ছাড়া হতে পারে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে যে ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্য থেকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই একজন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, যারা সরকার গঠন করে তারা যদি নিজেদের পছন্দমতো বিচারপতি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালক এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারবে না।
আখতার হোসেন বলেন, “সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তা সংস্কার করা ছাড়া প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়।”
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে দায় রেখে গেছে, তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে জামায়াতের ইতিহাসের দায় মুছে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবেই, তবে মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে একমত হতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সব দলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।”
আখতার হোসেনের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হতে পারে।