দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে গত বছরের ৫ আগস্ট, যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের পোষা বাহিনী ও পুলিশের হামলায় নিহত হয় প্রায় ২ হাজার ছাত্র-জনতা এবং আহত হয় ৩০ হাজার মানুষ।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই জনগণের অন্যতম দাবি ছিল দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং শাস্তি নিশ্চিত করা।
এ নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন বর্তমান সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সোমবার (২৬ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, “বিচার শুরু…” শিরোনামে তিনি লিখেছেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে ছিল।
আট মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর তদন্তকারী ও প্রসিকিউশন অফিস পুনর্গঠন করা হয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্ত শেষ করে একটি মামলার ফরমাল চার্জ গঠন করা হয়েছে। গতকাল এটি ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার পর তা আমলে নেওয়া হয়েছে।”
আসিফ নজরুল আরও বলেন, “ট্রাইব্যুনাল ফরমাল চার্জ আমলে নেওয়ার মাধ্যমে একটি বিচারপ্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সেটি কাল বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেল। মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান আসামি শেখ হাসিনার মামলার শুনানি অচিরেই শুরু হচ্ছে।
ইনশাআল্লাহ, ড. ইউনূস স্যারের সরকারের শাসনামলেই এই বিচারের রায় পেয়ে যাব আমরা। গণহত্যার বিচার, আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।”
জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই বিচার প্রক্রিয়ার শুরুতে দেশের মানুষ নতুন আশার আলো দেখছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে।