জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে নেতারা জনগণের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে ক্ষমতায় এসে পরে বয়স্ক ভাতাসহ নানা সুবিধা লোপাট করেছে। সোমবার (২৬ মে) নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভা এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে সারজিস আলম বলেন, আগামী নির্বাচনে অন্ধভাবে কোনো দলের পক্ষে দাঁড়ানোর দরকার নেই। এনসিপির কেউ ভালো লাগলে ভোট দেবেন, না হলে দেবেন না। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, “ভালো মানুষ দেখে ভোট দিন, মার্কা দেখে নয়। যে নেতা চাঁদাবাজি করবে, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেবেন না।”
তিনি অভিযোগ করেন, নীলফামারীতে আগে জেলা পর্যায়ে চাঁদাবাজি হতো, এখন তা উপজেলা, এমনকি অটো, ট্রাক, পিকআপ পর্যন্ত নেমে গেছে। জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিবাদ না করলে এরা একসময় আপনাদের গলা চেপে ধরবে।”
সারজিস আলম আরও বলেন, এখন যারা সরকারে আছেন, তারা কোনো দলের সরাসরি প্রতিনিধি নন। গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শে তারা কাজ করছেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন দ্রুত দিতে হবে — এ দাবি নয়; বরং স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও সংস্কারকৃত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন হতে হবে।
তিনি বিগত সময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগে নেতারা টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনে জনগণকে প্ররোচিত করত, পরে জনগণের পকেট কেটে নিজের সুবিধা আদায় করত। এবার সে পরিস্থিতি বদলাতে হবে।
এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান, সাদিয়া ফারজানা দিনা, আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আবু সাঈদ লিওন। নেতারা জানান, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে এনসিপির সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে।