ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা এবং নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের আবহে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে সরাসরি বার্তা দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম। যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে রোববার অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে চরমোনাই পীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“আপনি যদি পরাজিত হন, তাহলে আমরাও পরাজিত হবো। কিন্তু মাঝপথে আপনি আমাদের ছেড়ে যেতে পারেন না।”
রাজনৈতিক মহলে যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তখন ইসলামি নেতৃত্বের এমন অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। চরমোনাই পীর বলেন,
“দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে আমরা তাকে এনেছিলাম একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য। এখন আমরা স্পষ্ট দেখছি, তাকে সহজভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার ওপর যে মানসিক নির্যাতন চলছে, তা আমরা অনুভব করছি।”
এই মন্তব্য মূলত আওয়ামী লীগঘেঁষা মহলের ইঙ্গিতপূর্ণ পদক্ষেপ ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাপের প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত বলেই ধরে নিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। আলোচনায় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আপনি যদি হাল ছেড়ে দেন, আমাদের আন্দোলনের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যাবে। এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, গোটা রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্নের প্রশ্ন।”
তিনি নির্বাচনকে ঘিরে ভবিষ্যতের ঝুঁকির প্রসঙ্গও তোলেন। বলেন,
“যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার না হয়, তবে সামনে জাতীয় নির্বাচনও কালো টাকা ও পেশিশক্তির কবলে পড়বে। এতে আগের কলঙ্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আমরা তা কিছুতেই চাই না।”
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে দায়িত্বশীল প্রতিশ্রুতি দাবি করেন। একইসঙ্গে জানান, নির্বাচনের সময়কাল নিয়ে কিছুটা আস্থা ফিরে এসেছে। “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ২০২৬ সালের জুনের ৩১ তারিখের পর তারা আর থাকবেন না। এতে অন্তত ভেতরে থাকা কিছু ভয় কেটে গেছে।”
বৈঠকের শেষে ইসলামী আন্দোলন প্রধান বলেন,
“যেসব বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, সেসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাকে আমরা সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছি।”
চরমোনাই পীরের বক্তব্যে যেমন ছিল আন্তরিক আহ্বান, তেমনি ছিল পরোক্ষ রাজনৈতিক সতর্কতা—‘আপনি নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে ব্যর্থ হবে এই গণআন্দোলনের মেরুদণ্ড।’ বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ইসলামি শক্তিগুলোর স্পষ্ট অবস্থান এবং নৈতিক সমর্থনের এই বার্তা আগামী দিনের দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।