লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় পুলিশের হাত থেকে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাকে প্রকাশ্যে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আশরাফ উদ্দিন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চর কাদিরার সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, হত্যাচেষ্টা ও নাশকতার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আশরাফ উদ্দিনকে দুপুরে পুলিশ একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে হাতকড়া পরানোর পরপরই এলাকাজুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আশপাশ থেকে ছুটে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। জনতার ঘেরাও ও চাপে পড়ে মাত্র ৯-১০ জন পুলিশ সদস্যের সেই দল নেতাকে ছিনিয়ে ফেলার প্রতিরোধ করতে পারেনি।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হাতকড়াসহ আশরাফ উদ্দিনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের গাড়িও লক্ষ্য করে ধাওয়া দেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পিছু হটলেও তারা পরে ঘটনাস্থল থেকে আশরাফ উদ্দিনের হাত থেকে খোলা হাতকড়াটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কমলনগর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন,
“আশরাফ উদ্দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু সংঘবদ্ধ জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। ইতিমধ্যে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং তাকে দ্রুত ফের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এই ঘটনা প্রশাসনের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের অঘোষিত রক্ষাকবচ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে সরকারপন্থি দলের একজন অভিযুক্ত নেতাকে প্রকাশ্যে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—মাঠপর্যায়ে দলীয় নেতারা এখনো প্রশাসনের ঊর্ধ্বে। ক্ষমতার পালাবদলের এই সময়েও স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক চাপের মুখে কার্যত কোণঠাসা। জনতার ঢাল ব্যবহার করে প্রভাবশালীদের এভাবে আইনের বাইরে রাখার সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে দেশে চলমান উত্তেজনার মাঝে ক্ষমতাসীন দলের নেতার এ ধরনের প্রকাশ্য উদ্ধারের ঘটনা প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রমাণ হিসেবে সামনে আসছে। এখন দেখার বিষয়—পুলিশ প্রশাসন আদৌ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফের গ্রেপ্তার করতে পারে কি না, নাকি এটিও হয়ে উঠবে আরেকটি রাজনৈতিক ‘নাটকীয়তা’র অংশ।