ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের চেষ্টা হলে ইসরায়েলকে ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে—ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানার সম্ভাব্য পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের হামলার প্রস্তুতির খবর প্রকাশ হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইআরজিসি-এর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলজুড়েই তাৎপর্যপূর্ণ।
নায়েনি বলেন, যদি বিভ্রান্তিকর ইহুদিবাদী শক্তি বোকামিপূর্ণ হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তারা তাদের নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানার ভেতরেই ধ্বংসাত্মক জবাব পাবে। তাঁর ভাষায়,
“বিশ্বে এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে ইসরায়েলকে পরাজিত করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।”
এই বক্তব্যে ইরানের রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি সামরিক সংকল্পেরও প্রতিফলন ঘটেছে।
আইআরজিসি মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘আশ্চর্যজনক’ হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, “ইরান এখন অতীতের তুলনায় বহু গুণ শক্তিশালী, এবং আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলে সজ্জিত।”
একইসঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি নিশ্চিত করেন, দেশের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিটি স্তরে ও সমান্তরালে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন,
“ইরানি জনগণ কোনো রকম অস্থিতিশীলতা মেনে নেবে না। আঘাত এলে আমরা তাৎক্ষণিক ও আনুপাতিক জবাব দেব।”
এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘর্ষ, পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান, এবং পর্দার আড়ালে সৌদি-ইসরায়েল কূটনৈতিক সংলাপ—সবকিছু মিলিয়ে পুরো অঞ্চল যেন জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গে রূপ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বার্তা শুধু ইসরায়েলকে নয়, তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কোনো একপাক্ষিক সামরিক অভিযানের আগে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হোক। তেহরান এখন আর প্রতিরক্ষার পেছনে নয়, আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি শক্ত প্রতিশোধের কৌশলে বিশ্বাসী।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েল কি এই হুমকিকে উপেক্ষা করে আবার আগ্রাসনের পথে হাঁটবে, নাকি এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে? উত্তপ্ত এই কূটনৈতিক আবহে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন পুরোপুরি তেহরান-তেল আবিবের দিকে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?