সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে উদ্ধারকৃত প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বুধবার (২১ মে) বিকেলে লালমনিরহাটের ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ মাঠে এই ধ্বংসযজ্ঞের আয়োজন করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করতে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে মাদক দিয়ে বানানো হয় “মাদককে না বলুন” স্লোগানটি।
১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ধ্বংসকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সাব্বির আহমেদসহ সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম। হাতুড়ি ও রোলার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা এবং যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। এ অভিযানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই কেবল মাদকের বিস্তার রোধ সম্ভব।”
তিনি স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতি মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। বিজিবির এই পদক্ষেপকে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে উপস্থিতরা সংস্থাটির প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান। এক শিক্ষার্থী বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।”
ধ্বংসের পূর্বে মাদকদ্রব্য দিয়ে গঠিত
“মাদককে না বলুন” স্লোগানটি অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছিল। এই প্রতীকী বার্তার মাধ্যমে বিজিবি মাদকের অপব্যবহার রোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জরুরি।
লালমনিরহাটে এই ধ্বংসযজ্ঞ মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। বিজিবির এই অভিযান মাদক কারবারিদের জন্য সতর্কবার্তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য আশার আলো হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।