বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট একটি রিট খারিজ করে এই পথ উন্মুক্ত করে দেয়। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ রায়ে বলেন, রিটকারীর ব্যক্তিগত স্বার্থে করা এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে জনস্বার্থের কোনো বিষয় নেই। হাইকোর্টের এ আদেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেট ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর থাকলো।
রায়ের পরপরই ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা রাজধানীর কাকরাইল, হেয়ার রোড ও নগর ভবনের সামনে আনন্দ মিছিল করেন। তবে তাঁরা রাজপথ ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন। কারণ, তাঁদের দাবি—স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই উপদেষ্টার প্রশাসনিক প্রভাবেই শপথ অনুষ্ঠান বিলম্বিত হয়েছে এবং তারা আদালতের রায় বাস্তবায়নে অন্তরায় সৃষ্টি করছেন।
ইশরাক হোসেন নিজেও আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। বুধবার রাত থেকেই তিনি কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করেন এবং সড়কে বসে প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন,
এটি কেবল একটি পদ পাওয়ার আন্দোলন নয়; এটি বিচার বিভাগের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে জাতীয় সচেতনতার আন্দোলন। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারে পদে থাকা এই দুই উপদেষ্টার পক্ষপাতমূলক ভূমিকা সরকারের নিরপেক্ষতার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম একপ্রকার অচল হয়ে পড়ে। নাগরিক সেবার কার্যক্রম—পরিচ্ছন্নতা, ময়লা পরিবহন, বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বেশ কিছু দপ্তর বন্ধ রাখে বিএনপি-সমর্থিত কর্মচারী সমিতি। নগর ভবনের বিভিন্ন বিভাগে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, রায় দিয়ে হলেও আমাকে বসতে দিচ্ছে না, এটি আমার নয়—গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব নেওয়া উপদেষ্টারা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পদত্যাগ না করেন, তাহলে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরালো হবে।
বিষয়টি নিয়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এখন শপথে বাধা নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শপথ না করালে সেটি আদালত অবমাননা হবে। একই মত ব্যারিস্টার কায়সার কামালেরও। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তার আদেশ কার্যকর করতেই হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ট্রাইব্যুনাল চলতি বছরের ২৭ মার্চ ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে। এরপরই একটি মহল রিট দায়ের করে শপথ স্থগিতের চেষ্টা করে, যা আজ হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়।
এই রায়ের ফলে ইশরাক হোসেনের মেয়র পদে শপথ নেয়ার পথ আইনি দিক থেকে সুস্পষ্ট হলেও প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ এখনো স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—তা এখন নির্ভর করছে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ও জনমানসের চাপে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কতটা দ্রুত কার্যকর হয় তার ওপর।