জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। বুধবার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার অনিশ্চিত”, কারণ বর্তমান বিচারব্যবস্থায় বিএনপির একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে।
তারিকুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশের বিচার বিভাগে যেভাবে পাবলিক প্রসিকিউটর, বিচারক, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। শুধু তাই নয়, তার নেতৃত্বাধীন অফিসের ৯৫ শতাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরাও বিএনপিপন্থী। ফলে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রমে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির।
হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে তারিকুল বলেন, প্রথম দফার ২৩ জন বিচারপতির নিয়োগে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল। আইনজীবী মহলে এটি ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত। এমনকি যারা বিএনপিপন্থী নন, তাদের নিয়োগেও বিএনপির সম্মতি নেওয়া হয়েছে।
নিম্ন আদালতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর ও তাদের সহযোগীদের নিয়োগেও বিএনপি-আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রভাব ছিল। এতে আদালতগুলো বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দখলে চলে গেছে, যারা আওয়ামী লীগের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের জামিন দিয়ে, তাদের শেল্টার দিয়ে চলেছেন।
বিচারকদের বদলির ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায়, বিএনপি মনোনীত বিচারকদের বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ আদালতে বসানো হয়েছে। এর ফলে পুরো বিচার ব্যবস্থায় দলীয়করণ গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিচার বিভাগ যখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে, তখন জুলাই গণহত্যার নিরপেক্ষ বিচার আদৌ সম্ভব কি না, সেটাই এখন ছাত্র-জনতার বড় প্রশ্ন।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বিচার বিভাগকে যেভাবে দলীয়করণ করেছে, তা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকেও ছাপিয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপি যখন জাতীয় নির্বাচনের দাবি তোলে, তখন জনগণ প্রশ্ন তোলে—বিচার না চেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আসলে কী আদায় করতে চায়?