বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পুরোপুরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা হয়তো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের কাছে একটি আংশিকভাবে পুনর্গঠিত অর্থনীতি দিয়ে যাব, কিন্তু ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সরকারই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
বুধবার (২১ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে আর্থিক খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি)।
গভর্নর বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব নয়, যা পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, “বিদেশে চলে যাওয়া প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এখন দেশের বাইরে রয়েছে, যার ফলে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। আমাদের অর্থনীতি এই ক্ষতির খেসারত দিচ্ছে।”
বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়ে গভর্নর বলেন, এটি দ্রুত ৩০ বিলিয়নের ঘরে ফিরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৪২ শতাংশ মাত্র ০.১% হিসাবধারীর কাছে রয়েছে, যাদের হিসাবে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি রয়েছে— যা সম্পদের বিপুল পুঞ্জীভবনের ইঙ্গিত দেয়।
গভর্নর আরও বলেন, “আমরা নগদবিহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছি। বর্তমানে ২০ হাজার ব্যাংক এজেন্ট কাজ করছে, যা শিগগিরই ২৬ হাজারে উন্নীত হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, বিএনপি নেতা