পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ১৬ মে ইসলামাবাদে ‘ইউম-ই-তাশাকুর’ বা কৃতজ্ঞতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে জাতিকে উদ্দীপ্ত ও ঐক্যবদ্ধ রাখার বার্তা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যুদ্ধে জয়লাভ করেছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শান্তি।”
‘পাকিস্তান মনুমেন্ট’-এ আয়োজিত বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা। শেহবাজ শরিফ বলেন, “আমরা শত্রুকে শিক্ষা দিয়েছি, কিন্তু আমরা আগ্রাসনকে সমর্থন করি না। আমরা চাই এই উপমহাদেশ হিংসা নয়, উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাক।”
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শান্তি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানই এ অঞ্চলের মানুষের প্রাপ্য। “ভারত ও পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর ও পানিবণ্টনের মতো অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান করতে পারে। একবার সমাধান হলে আকাশই আমাদের সীমা,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় গভীর রাতে সেনাপ্রধান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর অনুমতি চান। “আমি বলি, এমনভাবে আঘাত করুন, যাতে তারা কোনোদিন ভুলতে না পারে।” প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, পাল্টা আঘাতের পরপরই শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করে—যা প্রকৃত জয়ের প্রমাণ।
ভারতের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে শেহবাজ বলেন, “যুদ্ধ কখনো সমাধান নয়। আসুন আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথ তৈরি করি। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল গড়ে তুলি।”
এই বক্তব্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তানের সদিচ্ছার প্রতীক হলেও, ভবিষ্যতে তা বাস্তব রূপ পাবে কিনা, তা নির্ভর করছে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?