শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন রাজপথে নিস্তব্ধতা, তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছিল অনলাইন অপপ্রচার। কিন্তু এবার অন্তর্বর্তী সরকার সেই সাইবার ষড়যন্ত্রের পথও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিল। বিচারের আগে পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম—ভৌত হোক বা ভার্চুয়াল—পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (১১ মে) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে, সাইবার স্পেসসহ।”
তিনি আরও লেখেন,
“উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে—জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, এবং জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের নিরাপত্তা ও ট্রাইব্যুনালের বাদী-সাক্ষীদের সুরক্ষায় আওয়ামী লীগের যাবতীয় অনলাইন এবং অফলাইন কার্যক্রম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ।”
এর আগে, ১০ মে শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা আসে। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত হলো ভার্চুয়াল জগতে, যেখানে তারা এতদিন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—অপরাধী গোষ্ঠী যতই ছদ্মবেশে লুকাক, রাষ্ট্রীয় বিচার থেকে রেহাই নেই। আওয়ামী লীগের সাইবার প্রচারযন্ত্র এখন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হলো—যেখানে তারা গুজব, বিভ্রান্তি ও বিভেদ ছড়িয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।
এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আইনের শাসন ও ন্যায়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই মুখ্য বিবেচ্য।