জাবি প্রতিনিধিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও গবেষণা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের অনুমোদিত নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ অবিলম্বে শুরুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা৷
এসময় গনিত সংসদের ব্যানারের প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন অংশ গ্রহন করে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় গনিত ছাত্র সংসদের সহসভাপতি আবু রুম্মান বলেন, প্রথমে বলতে চাই গণিত বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানগ্ন চারটি বিভাগের মধ্যে একটি ।
সেই থেকে এখন পর্যন্ত গণিত বিভাগ সফলতার সাথে শিক্ষা ও গবেষনা কার্যক্রম থেকে শুরু করে সকল সেক্টরে খুব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ২০২৩ সালে পুরো বাংলাদেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ শ্রেষ্ঠ হয়েছে।
আমাদের এই সফলতা শিক্ষার্থীরা অনেক পরিশ্রম করেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যেমন আমাদের ক্লাসরুম সংকট, পর্যাপ্ত পরিমাণ ল্যাব নেই। যেখানে আমাদের প্রতি ব্যাচে আশি থেকে নব্বই জন শিক্ষার্থী সেখানে ল্যাবে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি কম্পিউটার রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
যার ফলে আমাদের শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সেশন জটের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে পারছি না।
আমরা এতদিন চুপ ছিলাম। কারণ ২০২১ সালে গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত নতুন ভবনের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রশাসন। ২০২১ সালে এই ভবনের অনুমোদন হয়ে গিয়েছিল কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি।
গত কয়েক বছর প্রশাসন নতুন ভবনের স্থান নিয়ে নানান তালবাহানা করেছিল তবে সর্বশেষ পদার্থ বিজ্ঞানের পশ্চিম পাশে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কিন্তু এখনো সেই স্থানটি বাতিল করার জন্য নানান তাল বাহানা শুরু করেছে ।
এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়েছি । এর মধ্যে যদি আমাদের ভবনের কাজ শুরু না হয় তাহলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবো এবং ক্লাস পরীক্ষা বর্জন সহ প্রয়োজনে রেজিস্টার ভবন অবরোধ করবো।
৫৩ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, গণিত বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন একটি বিভাগ হয়েও এখনো এই বিভাগে নিজস্ব কোন ভবন নেই এবং আধুনিক ক্লাসরুমও নেই। আর এরই মধ্যে প্রশাসন আমাদের ভবনের স্থান নিয়ে নানান টালবাহানা করছে।
বিভিন্ন জায়গায় স্থান নির্ধারণ করেও আবার বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে দেখিয়েছে বৃক্ষ নিধন। জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে বাতিল করা হয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের যে স্থানটি সেখানে তেমন কোন গাছ নেই। আমাদের ভবনটি সেখানে করলে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ক্যাম্পাসে আমরা এর চার – পাঁচগুণ গাছ আমরা লাগাবো ।