মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

প্রতিপক্ষের হামলায় পরিবারের সবাই জখম

মেহেদী হাসান ,বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  জুম্মা নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হতেই ধারালো রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় ভেলানগরের হাবিবুর রহমানকে (২০)। এতে গুরুতর জখম হয়ে প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে কোনো রকমে নিজের বাড়িতে গেলে তখনও হয়নি রক্ষা। সেখানে হাবিবের মাসহ তাদের পরিবারের ৬ সদস্যকে কুপাতে থাকে বেশ কয়েকজন। পরে তাদের উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় […]

প্রতিপক্ষের হামলায় পরিবারের সবাই জখম

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৫, ২০:৪৩

মেহেদী হাসান ,বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 

জুম্মা নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হতেই ধারালো রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় ভেলানগরের হাবিবুর রহমানকে (২০)। এতে গুরুতর জখম হয়ে প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে কোনো রকমে নিজের বাড়িতে গেলে তখনও হয়নি রক্ষা। সেখানে হাবিবের মাসহ তাদের পরিবারের ৬ সদস্যকে কুপাতে থাকে বেশ কয়েকজন। পরে তাদের উদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সবাই। নিরাপত্তা হীনতায় বাড়ি ছাড়তে হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের।  

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এই ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর বড়বাড়ির চৌরাস্তার মোড়ে।

কুপানোর ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন ভেলানগর গ্রামের মৃত সুজ্জু মিয়ার ছেলে কামরুল (৩৬), জাকির হোসেনের ছেলে নিরব (২২), আব্দুল কাদির মিয়ার ছেলে সাইদুল (২২), সেন্টু মিয়ার ছেলে শিহাব (২২), মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মানিক (৫৫) ও মানিক মিয়ার ছেলে আশিক (১৮)। 

বাড়িতে গিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় ১১ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেন হাবিবুরের চাচাতো ভাই নূর মোহাম্মদ অলি।

অন্যদিকে,কামরুল গং -ও আল-আমিন সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ অলিদের বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিবাদের জেরে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত কামরুল, নিরব, সাইদুল, শিহাবরা হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা গড়ালে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে কামরুল-শিহাবরা।

বেশ কয়েকদিন ধরেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকেন তারা। এরই মধ্যে ঈদুল ফিতরের দিন কামরুল বাহিনী হাতুড়ি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ অলির স্বজন হুমায়ূন কবিরের দ্বিতল ভবনে গিয়ে ভাঙচুর করে। এসব করেও ক্ষান্ত হননি তারা। 

অভিযোগপত্রে অলি আরো বলেন, শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আমার চাচাতো ভাই হাবিবুরকে রাস্তায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে কামরুল, নিরব, শিহাব ও মানিক মিয়া। এসময় কোনো রকমে দৌড়ে প্রাণ বাঁচাতে হাবিবুর নিজের বাড়িতে গেলে সেখানেও তাকে মারধর করা হয়।

পরে তাকে বাঁচাতে গেলে আমিসহ (অলি) আমার বাবা দুলাল মিয়া, মা সুফিয়া বেগম, চাচি শিল্পী বেগম, হাবিবুরের মা সেনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে প্রতিবেশিরা ডাক-চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে কামরুল-শিহাবার আমাদের পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। 

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে উভয়পক্ষের বিবাদ চলছে। এর মধ্যে ঈদের দিন এই সূত্র ধরে হঠাৎ হুমায়ূন কবিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও তার ছেলেকে মারধর করে কামরুলসহ তার পরিবার। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয়দের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করে। পুলিশের শর্ত না মেনে আবারও হামলা চালায় কামরুল পরিবার।

অভিযুক্ত কামরুলের ছোট বোন ফারজানা আক্তার বলেন, কামরুলসহ আমাদের পরিবারের ৪/৫ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে আল আমীন এর লোকজন । আমাদের তেমন কোন দোষ নাই। কথা-কাটাকাটির জের ধরে উভয়পক্ষ মারামারি করেছে। 

ঢাকায় চিকিৎসাধীন কামরুলের মোবাইলে ফোন দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

ঘটনা বিষয়ে জানতে ভেলানগর গ্রামে অলিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই হাসপাতালে। বাকিরা প্রাণে বাঁচতে ঠাঁই নিয়েছেন অন্য কোথাও। বাড়িতে নারী ছাড়া কোনো পুরুষ কে পাওয়া যায়নি।

গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুলাল মিয়া, হাবিবুর রহমান ও শিল্পী বেগম। তাদের কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই। 

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরেই কামরুলের নেতৃত্বে বেপরোয়া হয়ে উঠে তার পরিবারের লোকজন। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে ১০ জনকে রাস্তায় মারধর করে তারা। প্রবাসে থেকে এর উস্কানি দেন তার ভাই জাকির। এভাবে চলতে থাকলে কেউ রেহাই পাবে না। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

একাধিকবার হামলা, পুরো পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকি, থানার সামনে মারধর ও সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, আমি উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।