বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।” […]
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরানে সরকারিভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে স্টারলিংক ইন্টারনেট পাঠান মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে সেই স্টারলিংক সংযোগ কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট আরও গভীর হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরান ওয়্যারের তথ্যের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে এমন দাবি শোনা গেলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ত্রিশ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, স্টারলিংক ইন্টারনেটের আশিরও বেশি শতাংশ ট্র্যাফিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, আগের ব্ল্যাকআউটগুলোর তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে এই সেবাটি চালু রাখা ও ব্যবহার করা দেশটির আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে বারো দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে শাটডাউনগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে খণ্ডিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।
মিয়ান গ্রুপের আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত বিশ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’ স্টারলিংক ডেটা প্যাকেট পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তিবিদরাও জানান, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা সাইমন মিগলিয়ানো ফোর্বসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে পনেরো লাখ ষাট হাজার ডলার খসে যাচ্ছে।’ এই তথ্য ইরানে চলমান যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]
সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’
শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।
জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।
আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।
শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।
এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।
ড. ইউনূসের বক্তব্য ‘ভারতের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি’, ভারতকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : দেববর্মা
Published on: 02 April, 2025
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য ও তিপ্রা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “এই বক্তব্য কোনো সাধারণ মতামত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক প্ররোচনা, যা ভারতের নিরাপত্তা ও একতার মূলে আঘাত হানতে পারে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি চীনের একটি আলোচনায় বলেন, “ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাতটি রাজ্য সম্পূর্ণরূপে ল্যান্ডলকড। তাদের কোনো সামুদ্রিক যোগাযোগ নেই। আমরা—বাংলাদেশ—এই অঞ্চলের একমাত্র সী-পোর্ট গার্ডিয়ান।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেববর্মা বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, এটি ভারতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ, অপমান এবং হুমকি।” তিনি সরাসরি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটা কোনোভাবেই সহনীয় নয়—ভারতকে এখনই কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কড়া জবাব দিতে হবে।”
প্রদ্যোত দেববর্মা স্পষ্ট বলেন, ভারত যদি এখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এর বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন আরও দুঃসাহস দেখাবে। আমাদের উচিত ট্রাম্প বা পুতিনের মতো শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করা। দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যারা আমাদের হুমকি দেয়, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়া।
তিপ্রাসা (ত্রিপুরার আদিবাসী) জনগণের পক্ষে দেববর্মা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাংলাদেশে আমাদের বহু বন্ধু আছে। আদিবাসী ভাইবোনেরা আমাদের পাশেই আছে। ভারত সরকার শুধু নির্দেশ দিক, আমরাও রুখে দাঁড়াব।”
ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘চিকেনস নেক’ করিডোর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেববর্মা বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্যকে নিছক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ ভেবে বসে থাকলে তা হবে মারাত্মক ভুল। এটি একটি ভূরাজনৈতিক খেলায় ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। বিশেষ করে যদি চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব জোরদার করে, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হতে পারে। দেববর্মা বলেন, “ভারত সরকারকে এখনই কঠোর এবং দূরদর্শী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিতে হবে। প্রতিক্রিয়া নয়, হতে হবে প্রস্তুত—সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির জন্য।”
শুধু তাই নয়, দেববর্মা সরাসরি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক নীতিকেও সমালোচনা করে বলেন, “গত কয়েক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একই ছকে চলছে। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেই চলবে না। নীতির প্রশ্নে আজ বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—যার প্রতীক হয়ে উঠছেন ড. ইউনূস।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী চাকমা, মণিপুরি, গারো ও খাসি সম্প্রদায়ের মানুষরা আজো অবহেলিত। ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং পরবর্তী বৈষম্য আদিবাসীরা আজও ভুলে যায়নি। অথচ এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটা কল্পনাতীত। ভারত চুপ করে থাকলে এমন মন্তব্যের মাত্রা আরও বাড়বে।”
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা দাবি করেন, এ হুমকি এখনই ঠেকাতে না পারলে তা শুধু সেভেন সিস্টার্স নয়, গোটা ভারতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই বাংলাদেশ সরকারের সামনে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—ভারতের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে কেউ কথা বললে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
১৯৭১ সালের গণহত্যার বিচার চেয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো…
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) সাবেক প্রধান অমরজিৎ সিং দুলাত জানিয়েছেন, ইরান এই যুদ্ধে…
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এশিয়ার গ্যাসনির্ভর দেশগুলো। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য…
হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজকে নিরাপত্তা প্যাসেজ দেওয়ার পরিবর্তে ভারতের কাছে ৩ ট্যাঙ্কার জাহাজ অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি ফেরত চেয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ এবং…