শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আয়নাঘরের ভয়ংকর চিত্র উঠে এল নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলার ১৭ কোটি মানুষের সামনে নতুন দুয়ার খুলেছে। এ সময় নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের কাহিনি। গোপন এ কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন রাজবন্দিরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সেই আয়নাঘরের বন্দিদের দুর্বিষহ জীবনের […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৫১

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বাংলার ১৭ কোটি মানুষের সামনে নতুন দুয়ার খুলেছে। এ সময় নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে শেখ হাসিনা সরকারের গোপন বন্দিশালা আয়নাঘরের কাহিনি। গোপন এ কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতেন রাজবন্দিরা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সেই আয়নাঘরের বন্দিদের দুর্বিষহ জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আয়নাঘরের নির্যাতনের কারণে কোনো কোনো বন্দি উন্মাদ হয়ে গেছেন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বন্দিশালার কয়েকজন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে তাদের নির্যাতনের ঘটনা জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার শত শত মানুষের এখনো খোঁজ মেলেনি। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন- বিক্ষোভ বা সভা-সমাবেশ, সড়ক অবরোধ, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষুব্ধ মন্তব্য করার জন্য অনেককে গুম করা হয়েছে।
গুমের শিকার অনেকে গোপন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আবার অনেককে আয়নাঘরের গোপন বন্দিশালায় বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে অনেকে মারা গিয়েছেন। তবে সেখান থেকে আবার কেউ কেউ জীবন নিয়ে ফিরেছেনও।
আয়নাঘরের বন্দি মীর আহমেদ কাসেম আরমান গত আগস্টে মুক্তি পেয়েছেন। এ গোপন বন্দিশালায় তার মতো আইনজীবী ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক, এমনকি মানবাধিকার কর্মীরাও ছিলেন।
গোপন এ বন্দিশালা থেকে মুক্ত হওয়া আরেকজন কয়েকবার স্ট্রোক করেছেন। তিনি মারা গেছেন ভেবে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করে নিয়েছেন। আরেকজন জানিয়েছেন যে, তার খোঁজে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে ঘুরতে শেষমেশ তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
আয়নাঘরে ঠিক কতজন মানুষ মারা গেছেন তা এখনো অজানা। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বহু স্বজন এখনো তাদের ফেরার জন্য দিন গুনছেন। তারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ অথবা গুমের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
নিখোঁজ এক ব্যক্তির স্বজন তাসনিম শিপরা বলেন, কী ঘটেছে আমরা তার জবাব চাই। আমার চাচা বেলাল হোসেন ২০১৩ সালে নিখোঁজ হয়েছেন। সম্ভবত তিনি দুনিয়াতে নেই।
সাবেক বন্দিদের তিনজনকে আয়নাঘরের একটি ছবি আঁকার অনুরোধ জানিয়েছিল সংবাদমাদ্যমটি। সেখানে তারা বর্ণনা দিয়ে বলেন, একটি লম্বা করিডোরে আধা ডজন কক্ষ রয়েছে। একটি থেকে অপরটি দূরত্বে থাকলেও তা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। করিডোরের দুই প্রান্তে রয়েছে শৌচাগার। সেখানে একটি দাঁড়িয়ে ব্যবহারের জন্য, আরেকটি বসে ব্যবহারের জন্য। প্রতিটি ঘরে রয়েছে বড় এগজস্ট ফ্যান। নিরাপত্তারক্ষীদের আলাপ যাতে না শোনা যায় এবং বন্দিদের মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত করা যায় সেজন্য এসব ফ্যান ব্যবহার করা হয়েছে।
আরমানের বর্ণনায় আয়নাঘর
মীর আরমান জানান, একদিন ভোর হওয়ার আগে কারারক্ষীরা তার কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তার মনে হয়েছিল যে এই মনে হয় সব শেষ হয়ে আসছে।
জানালাবিহীন একটি ঘরে আট বছর বন্দি ছিলেন আরমান। কক্ষটির অবস্থা এমন ছিল যে, সেখানে একেকটা দিনও যেন অন্তহীন রাতের মতো ছিল। তবে ওই দিনটি ছিল ভিন্ন রকমের। ভোরের আলো ফোটার আগে নিরাপত্তারক্ষীরা তার ঘরে ঢুকে নামাজ শেষ করতে বলেন। এ সময় হাতকড়া খুলে চোখের পুরু বাঁধনও খুলে দেন।
আরমান ভেবেছিলেন, তাকে হয়তো মেরে ফেলে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে অথবা নর্দমায় ফেলে দেওয়া হবে। সেদিন তিনিসহ আরও কয়েকজনকে ছোট ভ্যানগাড়িতে তুলে শুয়ে বেঁধে দেন। দুজনের নিচে তাকে লুকিয়ে রাখা হয়। তাদের নিয়ে এক ঘণ্টা গাড়ি ছুটতে থাকে।
অন্য অনেক রাজনৈতিক বন্দির মতো নির্মম ভাগ্য বরণ করতে হয়নি মীর আরমানকে। তাকে ঢাকার একটি নির্জন মাঠে ফেলে যাওয়া হয়। আরমান বলেন, দীর্ঘ অন্ধকার বন্দিজীবনে স্ত্রী ও দুই সন্তানের চিন্তা তাকে পাগল হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। আমি সবসময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যে, আমাদের পৃথিবীতে দেখা না হলেও জান্নাতে যেন একসাথে হতে পারি।
৪১ হাজার বার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো হয় আজমিকে
গোপন এ কারাগারের নির্মম যন্ত্রণার বর্ণনা দিয়েছেন সাবেক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের জন্য তাকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গত ৫ আগস্টের পর তিনি গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
আজমি আট বছর বন্দি ছিলেন। এ সময় অন্তত ৪১ হাজারবার তার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বন্দিজীবনে আকাশ, সূর্য, ঘাস বা গাছপালা দেখিনি। বন্দি হওয়ার পর আমি প্রথমদিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে আলো দেখার চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ সিসিটিভিতে দেখে তা বন্ধ করে দেয়।
গোপন এ কারাগারে জীবন ধারণের পরিবেশ ছিল না। এছাড়া সেখানে কঠোর নজরদারি করা হতো। চার থেকে ছয় মাসে একবার চুল কাটা হতো। জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। তবে বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন বন্দিরা।
শুক্রবার বাচ্চাদের গানের সুর ভেসে আসত
কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মারুফ জামান ২০১৯ সালে আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান। এক বছরের বেশি সময় তিনি আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন।
শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ভারতের স্বার্থরক্ষার সমালোচনা করতেন মারুফ জামান। তিনি জানান, আয়নাঘরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনবরত মুখে ঘুষি মারা হতো। ফলে তার দুটি দাঁত পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তার পোস্ট ও ব্লগের বিভিন্ন বিষয় প্রিন্ট করে আনতেন। পোস্টের নির্দিষ্ট কিছু প্যারা নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।
তাদের মধ্যে একজন একদিন মারুফ জামানকে বলেন, আপনার পোস্ট প্রিন্ট করতে আমরা অনেক অর্থ খরচ করেছি। আপনার বাবা কি এসব অর্থ আমাদের ফেরত দিবেন?
পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম দিনের আলো দেখেন মাইকেল
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী মাইকেল চাকমা আগস্টে মুক্তি পেয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে ঘুরিয়ে তাকে এক নির্জন বনে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পর তিনি জানান, পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম দিনের আলো দেখলাম। আমি যখন আলো দেখি তখন দুবার পরীক্ষা করি যে, আমি স্বপ্ন দেখছি নাকি বাস্তবে আছি।
২০১৯ সালে একটি ব্যাংকে ঢোকার সময় তিনি অপহৃত হন। কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদকারীদের কাছে জানতে চাইলে তাদের কাছ থেকে যে জবাব পেয়েছেন তা হলো- রাজনৈতিক প্রতিশোধ। আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। এ সময় মাইকেলের দলের ছাত্র সংগঠন সড়ক অবরোধ করে। সেদিন শেখ হাসিনা এ অবরোধের পেছনে কারা আছে তা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এ অধিকারকর্মী বলেন, ওই ঘটনা শেখ হাসিনাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। আমি সবসময় তাদের কাছে আমার দোষের কথা জানতে চাইতাম। তারা বলতেন, আমি আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনীতি করছি।
আজমির দুর্বিষহ দিন
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজমি বলেন, কারাগারে বড় কাপড় দিয়ে চোখ কখনো কখনো এমনভাবে বাঁধা হতো যে নাক আটকে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হতো। এমনকি চোখে ব্যথা হতো। আবদ্ধ ঘরে থাকার কারণে তার দাঁত ক্ষয়ে যায় এবং ত্বকে ঘা দেখা দেয়।
তিনি জানান, এসব নির্যাতনের বাইরেও সারাক্ষণ একটা আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াত। মাঝেমধ্যে মনে হতো যে একদিন রাতে তাকে বাইরে নিয়ে হত্যার পর কোথাও ফেলে দেওয়া হবে। এরপর পত্রিকায় ছাপা হবে যে, পুলিশের সঙ্গে তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
আজমি বলেন, ‍তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে মনেপ্রাণে চাইতেন যেন তার মরদেহ কুকুর-বিড়ালে না খায়। পরিবার ও স্বজনদের কাছে যেন তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি এমন অপমান আর যন্ত্রণা ভোগ করেছি যে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।