অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের মহোৎসব শুরু হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এক ছবির সঙ্গে আরেকটি ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, ভিন্ন ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড তৈরি করা হচ্ছে এবং এমনকি অন্য দেশের ঘটনাকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, এই ধরনের গুজব আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। কারা এসব অপপ্রচারের পেছনে কাজ করছে, তা কারও অজানা নয়। গুজবের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে এবং এটি সরাসরি দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র।’
ড. ইউনূস জানান, ‘আমরা এই গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছি। জাতিসংঘ মহাসচিব এ বিষয়ে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করেছি এবং আশা করছি তারা আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলো। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এক যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি, যেখানে গুজব হলো পরাজিত শক্তির অন্যতম প্রধান অস্ত্র। যারা এই গুজব ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত, তারা দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়।’
তিনি জনগণকে গুজবের উৎস সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গুজব দেখলেই এর উৎস খুঁজতে হবে। এটিকে অবহেলা করা যাবে না। গুজব ছড়ানোর কাজে দক্ষ ব্যক্তি ও বিপুল অর্থ নিয়োজিত রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করা। আমরা তাদের এই অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’
জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘জনগণের এই ঐক্য পলাতক শক্তিকে বিচলিত করে তুলছে। তারা চায় এই ঐক্য ভেঙে দিতে। তাদের কৌশল এতটাই সূক্ষ্ম যে অনেক সময় বোঝাই যায় না, কখন তাদের খেলায় কেউ পুতুল হয়ে গেছেন। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে গুজব রুখতে হবে এবং ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের এই ভাষণ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জাতীয় ঐক্য সংরক্ষণে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। পাশাপাশি, গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে সরকার তার শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করার পরামর্শ দেন।
ড. ইউনূসের এই ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের এই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসারের ড্রেস নিয়ে আপনার মতামত কী?