রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ধামইরহাটকে মডেল উপজেলা করার আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন- ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান

ছাইদুল ইসলাম, ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধি  নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হলো না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ নিজ কার্যালয়ে একান্ত সৌজন্য সাক্ষাতকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর। ধামইরহাটকে একজন গণমাধ্যম বান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার তিনটি প্রেস ক্লাবকে তিনি একত্রিত করেন […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৫, ২০:০৬

ছাইদুল ইসলাম, ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধি 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হলো না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ নিজ কার্যালয়ে একান্ত সৌজন্য সাক্ষাতকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের এ কথা বলেন ইউএনও মোস্তাফিজুর। ধামইরহাটকে

একজন গণমাধ্যম বান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার তিনটি প্রেস ক্লাবকে তিনি একত্রিত করেন এবং প্রেসক্লাবের বাইরে থাকা সাংবাদিকদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে একই চোখে দেখেছেন। উপজেলার উন্নয়ন ভাবনাসহ যেকোনো বিষয় সবার সাথে উন্মুক্তভাবে শেয়ার ও আলোচনা করে সবার মতামত নিতে চেষ্টা করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩১ অক্টোবর ধামইরহাট উপজেলায় যোগদান করেন তিনি এবং চার মাসের মাথায় গত ৫ মার্চ বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহীর এক আদেশ বলে তাকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় বদলি করা হয়।

গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমরা দেখেছি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের একই সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ক) ধামইরহাট পৌরসভার প্রশাসক, খ) ধামইরহাট উপজেলার প্রশাসক, গ) সহকর্মী কমিশনার ভূমি এর অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং ঘ) উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বসহ প্রায় ৫টি পদের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন। 

গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে খোলামেলা আলাপকালে তিনি পৌরসভার আয় ব্যায়ের বিষয়ে বলেন, এর আগে যেখানে প্রতি মাসের পৌরকর আদায় হত গড়ে ৫ লাখ টাকার মত, সেখানে তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নভেম্বর মাসে আদায় করেছি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৩০৮ টাকা, এছাড়াও ডিসেম্বর মাসে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৫ টাকা, জানুয়ারি মাসে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯০, ফেব্রুয়ারি মাসে আদায় ১১ লাখ ৬১ হাজার ৫৩৮ এবং চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮০ টাকা। গাণিতিকভাবে তুলনা করলে দেখা যায় যা এই পৌরসভার পূর্বের পৌরকর আদায়ের প্রায় ৩গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এর মধ্যে দিয়ে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি এও বলেন, এই আয় থেকে যেখানে পৌর মেয়রকে সরকারি সম্মানি ভাতা হিসেবে দিতে হতো মাসে ৪০ হাজার টাকা। সেখানে পৌর প্রশাসক হিসেবে এই সরকারি আয়ের ১ টাকাও প্রতিমাসের আমাকে সম্মানী দিতে হয়নি। পুরো টাকাটাই পৌরসভার উন্নয়ন কাজে ব্যয় করার পথ প্রশস্ত হয়েছে। 

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে উপজেলার আমায়তাড়া হাট-বাজার ইজারার প্রায় অর্ধেক টাকা বাকী ছিলো, যা তিনি পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে আদায় করেছেন। এছাড়াও ধামইরহাট বাজারের ইজারা মূল্যের সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়েও এই বছর প্রায় ১২ লাখ টাকা বেশি আদায় করা সম্ভব হয়েছে শুধু এই পৌর প্রশাসকের তৎপরতায়।

এছাড়াও গত বছর এই পৌরসভার হাটের ইজারা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাতীত অন্যান্য আয় ছিলো ১কোটি ১৫ লাখ টাকা সেখানে চলতি বছরের ৮ মাসেই অন্যান্য আয় হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এটা শুধু এই পৌর প্রশাসকে তার বিভিন্ন রকম তৎপরতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও ইউএনও ও পৌর প্রশাসক আমাদের পৌরসভার জন্য ল্যান্ডফিল বা ময়লার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

স্যারের বদলি জনিত বিদায়ের কারণে এই কাজগুলো হয়তো গতি হারাবে বা হয়তো হবেই না। ২০০৪ সাল থেকে এই পৌরসভা গঠিত হলেও ধামইরহাট পৌরসভার নিজেদের কোনো ভবন নেই। ফলে সেবা প্রার্থীদের স্থান অভাবে সঠিকভাবে সেবা দেওয়া যায় না।

পৌর প্রশাসক স্যার জয়েন করার পরেই বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত কিভাবে পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা যায় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্যারের বদলি হওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মাণ কাজ অনেকটা পিছিয়ে যাবে।

পৌর বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, মাত্র চার মাসের মধ্যে উপজেলায় দুর্নীতি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অবৈধ পুকুর খনন, ইটভাটা নির্মাণ ও মাদকসহ অসংখ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি উপজেলায় মানবিক ইউএনও হিসেবে দুস্থ, অসহায় ও সাধারণ মানুষদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। হঠাৎ তার বিদায়ের কারণে এই কাজগুলো থমকে গেল।

মানব সেবার সভাপতি রাসেল মাহমুদ বলেন, প্রতি মাসের সপ্তাহে একদিন শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০০ জন ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীদের খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিষয়টি ইউএনও স্যার জানতে পেরে আমার সংগঠনের ভিক্ষুকদের মুখে নিজ হাতে খাবার তুলে দিতেন। 

তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক কাজের বাহিরে দুস্থ ও সাধারণ মানুষদের কাতারে গিয়ে নানান ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতার মধ্যে অল্প সময়ে উপজেলা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করছে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এমন জনবান্ধব ইউএনও দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজন। তার অনাকাঙ্খিত বদলি জনিত বিদায়ের কারণে উপজেলার ভীষণ ক্ষতি হলো।

ইউএনও মোস্তাফিজুর বলেন, নওগাঁর ১১ তম উপজেলা হিসেবে ধামইরহাটকে এক নম্বর উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলায় ছিল আমার মূল লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এ উপজেলাকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সাত জন নারীকে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সরকারি খরচে বিদেশে পাঠিয়েছি। যুবক এবং নারী খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে জেলা চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ অর্জন করা হয়েছে। বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জেলা এবং বিভাগে যেনো প্রথম স্থান অর্জন করতে পারে এ কারণে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পাশাপাশি একজন ভালো বিতর্কিক হয়ে গড়ে উঠছিল।

তিনি আরও বলেন, উপজেলায় একটি পৌর ভবন এবং একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা আমার ভীষণ ইচ্ছে ছিল। এ কারণে পরিদর্শন করে জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে এখন। এছাড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং প্রান্তিক আয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ কমাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণিতে এই বছর ভর্তি হওয়া প্রায় ৩৫০০ জন শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল ব্যাগ, খাতা সহ নানা উপকরণ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, সময়ের অভাবে সেই কাজটি করা সম্ভব হলো না।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।