আশরাফুল ইসলাম, শেকৃবি প্রতিনিধি:
দেশের প্রথম ও একমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা, প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দিয়েছে খোলা চিঠি । “গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” নামের পরিবর্তে “বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলন করেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে জেলার নামে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় পরিচিতি দেওয়া জরুরি। তারা মনে করেন, দেশের অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানেও “বাংলাদেশ” শব্দটি থাকা উচিত। তাদের দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র নাগরিক অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এমনকি ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়, যেখানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম “বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম “গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” করা হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি তারা শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে দ্রুত “বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি” নামে অধ্যাদেশ জারির আবেদন জানায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ডিজিটাল উচ্চশিক্ষার অগ্রদূত। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আমাদের নাম পরিবর্তনের দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত আমাদের প্রস্তাবিত নাম স্বীকৃতি পাক।”
শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।