চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দেশের নানা জটিলতার কারণে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা (জয়নগর) চেকপোস্টসহ অত্র এলাকা যেনো খাঁ খাঁ করছে।
ব্যস্ততম বিস্তৃর্ন এলাকায় এখন নির্মল বাতাস আর দুয়েকটি মানুষ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তবে মাঝে মাঝে কুকুর বিড়াল দেখা যাচ্ছে।
চেকপোস্টে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার মূল দৃশও হারিয়ে গেছে। ইমিগ্রেশনের কাউন্টারের কর্মকর্তারা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। কুলি-শ্রমিকদের তেমন ব্যস্ততা নেই। এতে ব্যাপকভাবে কমেছে রাজস্ব আদায়। একধরনের সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। মাঝে মাঝে কিছু যাত্রীর আসা-যাওয়া চোখে পড়ছে।
গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে জয়নগর চেকপোস্ট ও শূন্যরেখায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
চেকপোস্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত কমেছে অনেকটাই। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে। এতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এখন যারা যাতায়াত করছেন তাদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, গত জুলাইয়ে এই চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করেছেন ১৬ হাজার ৬৪৪ জন যাত্রী। আগস্টে কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৩০৩ জনে। পরের মাসে কিছুটা বেড়ে ১৫ হাজারে ৯৪২ জনে দাঁড়ালেও অক্টোবর থেকে কমেছে ধারাবাহিকভাবে। তবে এর আগের বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছে দ্বিগুণের বেশি-যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৬ জন। যাত্রী কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে রাজস্ব আদায়ও।
ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা বলছেন, ভারত ভিসা দিচ্ছে না। তবে হাতেগোনা কয়েকটি মেডিকেল ভিসা দেয়া হচ্ছে। যারা ভিসা পাচ্ছেন, তারাই মূলত এখন ভারতে যাচ্ছেন। ভিসা না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ভিসা জটিলতা কেটে গেলে আবারও রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলে প্রত্যাশার কথা জানান জয়নগর চেকপোস্টের রাজস্ব কর্মকর্তা।
চুয়াডাঙ্গার জয়নগর চেকপোস্টের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আল ইকরাম অমিত বলেন, ভারত তাদের ভিসা নীতি পুনর্বিবেচনা করে বাংলাদেশি যাত্রীদের পুনরায় ভারতে যাওয়ার জন্য ট্যুরিস্ট ও বাণিজ্য ভিসা দিলে জয়নগর চেকপোস্টের রাজস্ব আদায় আবারও বাড়বে।
উল্লেখ্য, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী যাতায়াতের কারণে ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৭ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছে জয়নগর কাস্টমস।