মোঃ মেহেদী হাসান,ঢাকা (মহানগর প্রতিনিধি):
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বাঙলা কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বাঙলা কলেজ বিজনেস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস।
পিঠা উৎসব ও বাঙালি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। কলেজ প্রাঙ্গণে ২০টি স্টলে ৫০ প্রকারের বেশি ঐতিহ্যবাহী পিঠার প্রদর্শনী ও বিক্রয় অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় কলেজের বিভিন্ন বিভাগ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা, বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতি (বাকসাস), বিএনসিসি, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধন, রেডক্রিসেন্ট, গার্লস গাইড, লিও ক্লাব, বাঙলা কলেজ ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি সোসাইটি ও রোভার স্কাউটস।
প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলোর মধ্যে ছিল: নকশি পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, দুধপিঠা, পাটিসাপটা ও নারকেল পুলি। শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্টল সাজিয়ে পিঠার স্বাদ পরিবেশন করেন, যা পুরো ক্যাম্পাসকে বাংলার ঐতিহ্যের আবহে রঙিন করে তোলে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস
উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করেন। এতে তাদের সৃজনশীলতা ও শিল্পীসত্তার প্রকাশ ঘটে।
উৎসব নিয়ে বিশিষ্টজনদের বক্তব্য
প্রিন্সিপাল মো. কামরুল হাসান বলেন, “পিঠা উৎসব আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তরুণদের বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। আমরা এই তরুণদের নিয়েই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
ভাইস প্রিন্সিপাল মিটুল চৌধুরী বলেন, “তারুণ্যের শক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে উৎসব আয়োজন করব।”
অধ্যাপক মো. আওলাদ হোসেন বলেন, “তারুণ্য মানেই উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও শক্তি। এই উৎসব তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবনী পথ তৈরি করতে সাহায্য করবে।”
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার আহ্বায়ক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “তারুণ্যই দেশের ভবিষ্যৎ। এই ধরনের আয়োজন তরুণদের ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফয়সাল রেজা বলেন, “শুধু বিনোদন নয়, এ ধরনের উৎসব তরুণদের ঐক্য ও নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক। তরুণদের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে হবে।”
বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতি (বাকসাস) এর সদস্য সচিব এইচ.এম. সাইফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, “সাংবাদিকতা কেবল খবর সংগ্রহের কাজ নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। ‘তারুণ্যের উৎসব’ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে সহায়ক হবে।”
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণদের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া পিঠা সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ করতেই এই উৎসব। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।
উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এটিকে এক মহামিলনমেলায় পরিণত করে। উপস্থিত অভিভাবকরাও এ ধরনের উদ্যোগকে ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারুণ্যের প্রাণশক্তি, সৃজনশীলতা ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা যায়।