মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নিরাপদ সড়ক চাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক তানভীর, সদস্য সচিব স্বাধীন 

হাবিবুর রহমান সাগর , জাবি প্রতিনিধি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিবেশ বিজ্ঞান ৫০ ব্যাচের মো. তানভীর রহমানকে আহ্বায়ক এবং আইন ও বিচার ৫০ ব্যাচের মো. ফয়সাল আহম্মেদ স্বাধীনকে সদস্য সচিব করে ২১ (একুশ) সদস্য বিশিষ্ট ২০২৪-২৫ কার্যনির্বাহী আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে এর আগে ২৩ জানুয়ারি বিকালে নিসচা […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ জানুয়ারী ২০২৫, ২০:৩৭

হাবিবুর রহমান সাগর , জাবি প্রতিনিধি

জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিবেশ বিজ্ঞান ৫০ ব্যাচের মো. তানভীর রহমানকে আহ্বায়ক এবং আইন ও বিচার ৫০ ব্যাচের মো. ফয়সাল আহম্মেদ স্বাধীনকে সদস্য সচিব করে ২১ (একুশ) সদস্য বিশিষ্ট ২০২৪-২৫ কার্যনির্বাহী আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে

এর আগে ২৩ জানুয়ারি বিকালে নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন ও মহাসচিব একে এম আজাদ হোসেন এর স্বাক্ষরে কমিটির অনুমোদন হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিনহাজুল ইসলাম, মো. তাওফিকুর রহমান।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন, রাজীব হোসেন, দিদারুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আসিফ, মাশফিকুর রহমান নাঈম, ফেরদৌস মোল্যা, ধ্রুব চন্দ্র মোদক, মো. আতিফ হোসেন, মো. তৌকির কিবরিয়া, মো. জাহিদ খান, বুবলী আহমেদ, এস.এম. আব্দুল্লাহ আল আমিন, নূসরাত জাহান, মুহাম্মদ আনাস বিন আলম, মো. আব্দুল রাহাদ, ফাহিম ফয়সাল, মো. আমানুল্লাহ, জাবির মাহমুদ।

কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন-
অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, ডিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, জাবি। অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম, ডিন, আইন অনুষদ,৷ জাবি। অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, সভাপতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অধ্যাপক ড. আইরিন আখতার, সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন, চেয়ারম্যান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, জাবি।
অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার, কোষাধ্যক্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম, প্রক্টর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
শামীমা নাসরীন জলি, সহকারী প্রক্টর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

কমিটিতে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন-ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাবি। জনাব কামরুল হাসান, সহযোগী অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাবি। মো. ইমরান হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটি। মো. সোহেল রানা, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, নিরাপদ সড়ক চাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মো. হাবিবুর রহমান আসিফ, সাবেক সদস্য, নিরাপদ সড়ক চাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

কেন্দ্রীয় কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন বলেন,”আমরা সবাই অবগত আছি যে, নিরাপদ সড়ক চাই স্বেচ্ছাসেবী জাতীয় সামাজিক সংগঠন। এক মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক ঘটনার মধ্য দিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা) আন্দোলনের শুরু। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চন। প্রাণপ্রিয় স্ত্রী হারানোর সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গড়ে তোলেন এক সামাজিক আন্দোলন – নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সুদীর্ঘ ৩১ বছরের পথ পরিক্রমায় আন্দোলন আজও চলমান। আমাদের উদ্দেশ্য এটাই সড়কের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। সেই লক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পুনরায় পথচলা শুরু হলো। যেহেতু আমাদের আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর এলাকা বেশ বড়। এখানে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কসমূহকে নিরাপদ করার লক্ষে আজকের এই কমিটি গঠিত হয়েছে। আমি আশা ও বিশ্বাস করি সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আমরা সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

নবনির্বাচিত কমিটির আহ্বায়ক মো. তানভীর রহমান বলেন,” একটি দূর্ঘটনা ও হারানোর বেদনা মনে কতটুকু গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে তা ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবনী দেখলেই বোঝা যায়, এই সংগঠন শুধু তাঁর অর্ধাঙ্গিনী হারানোর অনুভূতি থেকেই তিনি তৈরি করেননি বরঞ্চ লাল-সবুজের বাংলার সড়কগুলোয় প্রতিদিন যারা তাদের প্রিয়জন হারায়, তাদের সকলের অনুভূতি একীভূত করে তৈরি করেছেন। ২০১৮ সাল তিতুমীর কলেজের রাজীবের হাতটি যখন দুটি বাসের চাপায় একদম ছিটকে যায় একটি পরিবার তার চালিকাশক্তি হারায়। ২০১৮ সালের আরেকটি ঘটনা, শহীদ রমিজউদীন ক্যন্টের ২জন শিক্ষার্থী জাবালে নূর পরিবহনপর চাপায় পিষ্ট হলে জোরেসোরে নিরাপদ সড়কের ব্যাপারটি সামনে আসে, কয়েকদিন যেতে না যেতেই তা থেমে যায়। আমরা সড়ক আইনের বাস্তবায়ন ফিরিয়ে আনবো, আমাদের কোনো বোন রাচি মারা যাবে না, এই বিশ্ববিদ্যালয় সকলের নিরাপদ ও নির্দিধায় চলার একটি ক্ষেত্র হবে, সেই লক্ষেই কাজ করে যাবে নিসচা জাবি শাখা ইনশাআল্লাহ। ইলিয়াস কাঞ্চনের সুরে সুর মিলিয়ে আমরা লক্ষ নিয়ে আগাই ইনশাআল্লাহ কোনো একদিন আমরা সড়ক দূর্ঘটনাকে শূণ্যে নামিয়ে আনতে পারবো।”

নবনির্বাচিত সদস্য সচিব মো. ফয়সাল আহম্মেদ স্বাধীন বলেন,”শুকরিয়া আদায় করছি মহান আল্লাহ’র যিনি আজকে আমাদের এখানে মিলিত হবার সুযোগ দিয়েছেন।
১৯৯৩ সালের পহেলা ডিসেম্বর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, দেশে সড়ক দূর্ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে দেশব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে গঠন করেন- “নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠন”। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার দিনকে গুরত্ব দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। সারাদেশে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ২০২২ সালের ৬ জুন সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন পায়। তারপর থেকেই জাবি শাখা ক্যাম্পাসের সড়ক নিরাপত্তা সহ ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও অসচেতন চলাচল যাতে আর কখনো কোনো প্রাণনাশের কারণ না হয়, সেই চাওয়া ই থাকবে, এবং সে বিষয়ে কাজ করে যাবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জাবি শাখা।।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।