আশরাফুল ইসলাম (শেকৃবি প্রতিনিধি):
কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে দেশজুড়ে গণ-আন্দোলন এবং ক্ষমতার বড় ধরনের পরিবর্তনের পরও রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) এখনও সেই পুরনো কোটা পদ্ধতি বহাল রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের জন্য বিতর্কিত কোটা এবং পোষ্য কোটার (ওয়ার্ড কোটা) মতো বিশেষ সুবিধা এখনো বিদ্যমান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিগগিরই তারা কোটা পদ্ধতি সংস্কারে পদক্ষেপ নেবে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি ও শিক্ষা শাখা থেকে জানা যায়, শেকৃবিতে মোট আসনের ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী কোটার আওতায় ভর্তি হন। এর মধ্যে ৩ শতাংশ আসন ‘ওয়ার্ড কোটা’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত। ৬৯৮টি আসনের মধ্যে ২০টি পোষ্য কোটার জন্য বরাদ্দ রয়েছে, যা মোট কোটার অন্তর্ভুক্ত ৭৮টি আসনের অংশ।
গত কয়েক বছরের পোষ্য কোটায় ভর্তিকৃত ছাত্রদের তালিকা বিশ্লেষণ করা জানা যায়, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ৬ জন পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছে। তারমধ্যে কৃষি অনুষদে ৫ জন এবং ফিশারিজ অনুষদে ১ জন। ৬ জনের মধ্যে ৪ জন কৃষি গুচ্ছের নিয়ম অনুসারে এবং ২ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নিয়ন অনুসারে ভর্তি হয়েছে। এর আগে ২৩ শিক্ষাবর্ষে ৭ জন, ২২ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন এবং ২১ শিক্ষাবর্ষে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে পোষ্য কোটা বাতিলসহ ভর্তি পরীক্ষায় বিদ্যমান সকল প্রকার কোটার যৌক্তিক পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৫ ডিসেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে কোটা সংস্কারের জন্য আবেদন জমা দেন।
আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে শেকৃবির ভর্তি পরীক্ষায় বিদ্যমান ১১.৩৭ শতাংশ কোটা কমিয়ে সর্বমোট ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখছেন। প্রস্তাবিত কোটার মধ্যে ৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও উপজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আসন সংখ্যা ৭০০ রাখা হোক এবং কোটার আসন সংখ্যা পূরণ না হলে মেধাতালিকা থেকে আসন পূরণের ব্যবস্থা করা হোক।
কোটার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা সকল প্রকার কোটা সংশোধন চাই। এবিষয়ে আমরা শীঘ্রই কমিটি গঠন করব। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা ইউজিসি যে নির্দেশনা দিবে সে আলোকেই আমরা সংশোধন করব।